ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ক্ষমতার নতুন খেলা: মেলায় ঢুকতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কৌশলী চাল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 928

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ মেলাকে ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই আয়োজনে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে প্রধান অতিথি করা হয়েছে বিগত সময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করা সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে। এমনকি মেলায় আমন্ত্রণ পাননি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও।

বিতর্কের কেন্দ্রে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ডেভিড শিকদার

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়িতে আয়োজিত হতে চলেছে এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও মেলা। এই অনুষ্ঠানের পোস্টারে প্রধান অতিথি হিসেবে নাম রয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাবেক সভাপতি আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদারের। আর বিশেষ অতিথি করা হয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা খন্দকার ওমর হাফিজ মুক্তিকে।

স্থানীয়দের মতে, ছাত্রজীবনে বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা ডেভিড শিকদার প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে গত ১৭ বছরে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন এবং বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি এবার টাকার জোরে এলাকায় তৎপরতা শুরু করতে চাইছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ

আয়োজন থেকে বাদ পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, “আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও মেলা আয়োজনের বিষয়ে কিছুই জানি না। একজন চেয়ারম্যান হিসেবে আমার নাম পোস্টারে থাকা তো দূরের কথা, আমাকে দাওয়াতও দেওয়া হয়নি। এটা খুবই দুঃখজনক।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী এলাকায় রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে।

উপজেলা বিএনপির নেতা মোঃ রোকনুজ্জামান মিয়া বকুল বলেন, “আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে যিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, সেই ডেভিড শিকদারকে প্রধান অতিথি করে কার্যত আওয়ামী লীগকেই পুনর্বাসন করার চেষ্টা চলছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করি।”

আয়োজক কমিটির পাল্টা বক্তব্য

এই বিতর্কের বিষয়ে আয়োজক কমিটির সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশ, যিনি নিজেও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা, তিনি বলেন, “এটি আমাদের ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা। আমরা কোনো রাজনীতিবিদকে অনুষ্ঠানে রাখিনি। পোস্টারেও কারো রাজনৈতিক পরিচয় বা পদপদবি উল্লেখ করা হয় নাই।”

তিনি দাবি করেন, তারা সবাইকে সঙ্গে নিয়েই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এটি নিছকই একটি গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী উৎসব, কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদারের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

ফরিদপুরে ক্ষমতার নতুন খেলা: মেলায় ঢুকতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কৌশলী চাল

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ মেলাকে ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই আয়োজনে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে প্রধান অতিথি করা হয়েছে বিগত সময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করা সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে। এমনকি মেলায় আমন্ত্রণ পাননি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও।

বিতর্কের কেন্দ্রে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ডেভিড শিকদার

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়িতে আয়োজিত হতে চলেছে এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও মেলা। এই অনুষ্ঠানের পোস্টারে প্রধান অতিথি হিসেবে নাম রয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাবেক সভাপতি আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদারের। আর বিশেষ অতিথি করা হয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা খন্দকার ওমর হাফিজ মুক্তিকে।

স্থানীয়দের মতে, ছাত্রজীবনে বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা ডেভিড শিকদার প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে গত ১৭ বছরে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন এবং বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি এবার টাকার জোরে এলাকায় তৎপরতা শুরু করতে চাইছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ

আয়োজন থেকে বাদ পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, “আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও মেলা আয়োজনের বিষয়ে কিছুই জানি না। একজন চেয়ারম্যান হিসেবে আমার নাম পোস্টারে থাকা তো দূরের কথা, আমাকে দাওয়াতও দেওয়া হয়নি। এটা খুবই দুঃখজনক।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী এলাকায় রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে।

উপজেলা বিএনপির নেতা মোঃ রোকনুজ্জামান মিয়া বকুল বলেন, “আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে যিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, সেই ডেভিড শিকদারকে প্রধান অতিথি করে কার্যত আওয়ামী লীগকেই পুনর্বাসন করার চেষ্টা চলছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করি।”

আয়োজক কমিটির পাল্টা বক্তব্য

এই বিতর্কের বিষয়ে আয়োজক কমিটির সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশ, যিনি নিজেও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা, তিনি বলেন, “এটি আমাদের ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা। আমরা কোনো রাজনীতিবিদকে অনুষ্ঠানে রাখিনি। পোস্টারেও কারো রাজনৈতিক পরিচয় বা পদপদবি উল্লেখ করা হয় নাই।”

তিনি দাবি করেন, তারা সবাইকে সঙ্গে নিয়েই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এটি নিছকই একটি গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী উৎসব, কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদারের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।