ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফের তোলপাড় ফরিদপুর: ‘সন্ত্রাসী গডফাদার’ তকমা! নেপথ্যে কী?

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 907

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপিতে চলমান তীব্র কোন্দল এবার প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি ওসির বিরুদ্ধে মানববন্ধনের প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার হওয়া চার নেতার মধ্যে মাত্র একজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এমন দাবি তুলেছে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম সমর্থিত একাংশ।

আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সড়কে অবস্থিত বিএনপির একাংশের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতা খোশবুর রহমান খোকনকে ‘সন্ত্রাসীর গডফাদার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তারা।

গ্রেপ্তার নিয়ে নাসির গ্রুপের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুজ্জামান খসরু লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এই অংশে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম সমর্থিত অংশের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

বহিষ্কৃত নেতারা: লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে কামরুল ইসলাম দাউদ, রমজান মোল্যা, নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন গত বছরের ৫ আগস্টের আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন।

চাঁদাবাজি ও দাঙ্গাহাঙ্গামা: বহিষ্কৃত এসব নেতা পরবর্তীতে বিএনপি নেতা খোশবুর রহমান খোকনের ছত্রছায়ায় থেকে দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দাঙ্গাহাঙ্গামা এবং প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।

‘সন্ত্রাসীর গডফাদার’: তাঁরা খোশবুর রহমান খোকনকে ‘সন্ত্রাসীর গডফাদার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, একটি মারামারি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পরই ৩ অক্টোবর খোশবুর রহমান পরদিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে গেলে পুলিশ তাঁকে অন্যদের সঙ্গে গ্রেপ্তার করে।

সংগঠনগত পরিচয়: তাঁদের অভিযোগ, সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত চারজনকেই বিএনপির নেতা হিসেবে প্রচার করা হলেও, বাস্তবে শুধুমাত্র খোশবুর রহমান খোকনই বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, বাকি তিনজন নন।

অভিযোগের উদাহরণ

সংবাদ সম্মেলনে খোশবুর রহমান খোকনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়:

জাটিগ্রামের রফিক মেম্বারকে অপহরণ ও হেনস্তা।

বোয়ালমারীর চাঁদ মিয়া ও দুলু চৌধুরীকে মারধর।

যুবদলের আহ্বায়ক মো. শাহিন মোল্লাকে প্রহার।

বনি আমিন ও উজ্জ্বল শেখকে মারধর করে মুক্তিপণ দাবি।

আলফাডাঙ্গা বিএনপির দ্বিধা বিভক্তি

আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, এবং অপর অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ওরফে ঝুনু। এই দুজনই আগামীতে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এ অভিযোগ বিষয়ে জানতে শামসুদ্দিন মিয়ার অনুসারী আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম শেখকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফের তোলপাড় ফরিদপুর: ‘সন্ত্রাসী গডফাদার’ তকমা! নেপথ্যে কী?

আপডেট সময় : ০৯:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপিতে চলমান তীব্র কোন্দল এবার প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি ওসির বিরুদ্ধে মানববন্ধনের প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার হওয়া চার নেতার মধ্যে মাত্র একজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এমন দাবি তুলেছে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম সমর্থিত একাংশ।

আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সড়কে অবস্থিত বিএনপির একাংশের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতা খোশবুর রহমান খোকনকে ‘সন্ত্রাসীর গডফাদার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তারা।

গ্রেপ্তার নিয়ে নাসির গ্রুপের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুজ্জামান খসরু লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এই অংশে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম সমর্থিত অংশের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

বহিষ্কৃত নেতারা: লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে কামরুল ইসলাম দাউদ, রমজান মোল্যা, নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন গত বছরের ৫ আগস্টের আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন।

চাঁদাবাজি ও দাঙ্গাহাঙ্গামা: বহিষ্কৃত এসব নেতা পরবর্তীতে বিএনপি নেতা খোশবুর রহমান খোকনের ছত্রছায়ায় থেকে দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দাঙ্গাহাঙ্গামা এবং প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।

‘সন্ত্রাসীর গডফাদার’: তাঁরা খোশবুর রহমান খোকনকে ‘সন্ত্রাসীর গডফাদার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, একটি মারামারি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পরই ৩ অক্টোবর খোশবুর রহমান পরদিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে গেলে পুলিশ তাঁকে অন্যদের সঙ্গে গ্রেপ্তার করে।

সংগঠনগত পরিচয়: তাঁদের অভিযোগ, সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত চারজনকেই বিএনপির নেতা হিসেবে প্রচার করা হলেও, বাস্তবে শুধুমাত্র খোশবুর রহমান খোকনই বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, বাকি তিনজন নন।

অভিযোগের উদাহরণ

সংবাদ সম্মেলনে খোশবুর রহমান খোকনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়:

জাটিগ্রামের রফিক মেম্বারকে অপহরণ ও হেনস্তা।

বোয়ালমারীর চাঁদ মিয়া ও দুলু চৌধুরীকে মারধর।

যুবদলের আহ্বায়ক মো. শাহিন মোল্লাকে প্রহার।

বনি আমিন ও উজ্জ্বল শেখকে মারধর করে মুক্তিপণ দাবি।

আলফাডাঙ্গা বিএনপির দ্বিধা বিভক্তি

আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, এবং অপর অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ওরফে ঝুনু। এই দুজনই আগামীতে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এ অভিযোগ বিষয়ে জানতে শামসুদ্দিন মিয়ার অনুসারী আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম শেখকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।