সড়কে চাঁদাবাজি থামাতে গিয়ে মার খেলেন অ্যাডিশনাল এসপি
- আপডেট সময় : ০৯:৫২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
- / 253
নরসিংদী পৌর এলাকার আরশীনগর রেলক্রসিং–সংলগ্ন মোড়ে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়ের সময় আটক দুই ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিতে দুর্বৃত্তরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনায় এএসপি গুরুতর আহত হন।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহত অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজধানীর রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
যেভাবে ঘটল হামলার ঘটনা
এএসপি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মূলত একটি লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফিরছিলেন। আরশীনগর মোড়ে এসে তিনি চাঁদা তোলা হতে দেখেন।
চাঁদা আদায় ও আটক: প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আরশীনগর মোড়ে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়ের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন আটজন পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে দুজনকে হাতেনাতে আটক করেন।
হামলা ও ছিনতাই: আটক দুজনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে একদল লোক দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় এএসপি আনোয়ার হোসেনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লাগে এবং তাঁকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। হামলাকারীরা আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। হামলায় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য কিলঘুষিতে আহত হন।
পুলিশ কর্মকর্তা ও হাসপাতালের বক্তব্য
আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করেছেন।
এএসপি আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ: আহত পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, “৩০–৩৫ জন লোক অতর্কিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা আমাকে কিলঘুষি মারতে থাকে।”
চিকিৎসক: নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, এএসপি আনোয়ার হোসেনের ঘাড়ে ও পায়ে রক্ত জমে গিয়েছিল। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য বলা হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চলে যান।
ইজারাদার-নেতার ভিন্ন দাবি
হামলার ঘটনার পর অভিযুক্ত চাঁদাবাজদের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে।
ইজারাদারের পরিচয়: সিএনজি ও অটোস্ট্যান্ডের ইজারাদার আলমগীর হোসেন হলেন নরসিংদী শহর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা যুবদলের সভাপতি মহসীন হোসাইনের (বিদ্যুৎ) বড় ভাই।
ইজারাদারের অভিযোগ: আলমগীর হোসেন দাবি করেন, তিনি বৈধভাবে পৌরসভা থেকে ২৫ লাখ টাকায় স্ট্যান্ড ইজারা নিয়েছেন, কিন্তু অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রায়ই ইজারার টাকা তুলতে বাধা দেন। তিনি পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পৌরসভার বক্তব্য: তবে ইজারাদার সড়ক থেকে চাঁদা তুলতে পারেন কি না, এই বিষয়ে নরসিংদী পৌরসভার প্রশাসক মো. মনোয়ার হোসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইজারার আওতায় শুধুমাত্র নির্ধারিত কয়েকটি স্ট্যান্ড থেকে টাকা তোলার কথা। কোনোভাবেই সড়কে চলাচলরত যানবাহন থেকে টাকা তোলার সুযোগ নেই।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















