প্রবাসীর স্ত্রীকে জোরপূর্বক যুবদল সভাপতির সঙ্গে বিয়ে দিলেন আ. লীগ নেতা
- আপডেট সময় : ১২:৪১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
- / 590
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের পর জোরপূর্বক পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এই লোমহর্ষক নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) উপজেলার ৪ নম্বর শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ গ্রামের প্রবাসী রতন মিয়ার স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী।
ভিডিও ভাইরাল: নির্যাতনের পদ্ধতি ও সালিশ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ৪ নম্বর শ্রীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি তারা পুষ্করুণী গ্রামের বিল্লাল মিয়ার অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। এরপর তাঁদের দুজনকে আটক করা হয়।
সালিশ বৈঠক: গোপালনগর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য বজলু মিয়ার নেতৃত্বে একটি সালিশ বৈঠক বসে।
ভিডিওতে যা দেখা যায়: ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশের নামে বজলু মেম্বার ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাঠি পেটা করছেন এবং শারীরিক নির্যাতন করছেন। তবে পরকীয়া প্রেমিক যুবদল নেতা বিল্লাল মিয়াকে কোনো ধরনের নির্যাতন করতে দেখা যায়নি।
নির্যাতন ও জোরপূর্বক বিয়ে
আওয়ামী লীগ নেতা বজলু মেম্বারের এমন পক্ষপাতমূলক আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বজলু মেম্বারের স্বীকারোক্তি: অভিযুক্ত বজলু মেম্বার বলেন, “ওই মহিলা আমার ভাতিজার স্ত্রী। তাদেরকে হাতেনাতে ধরে আমি ভাতিজার স্ত্রীকে মেরেছি, তবে এটা আমার উচিত হয়নি।”
জোরপূর্বক বিয়ে: নির্যাতনের পরই ওই গৃহবধূকে যুবদল নেতা বিল্লাল মিয়ার সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়।
দুটি সংসার ভাঙন: স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যুবদল নেতা বিল্লাল মিয়া পূর্বেই বিবাহিত এবং তাঁর সংসারে স্ত্রী ও চারটি মেয়ে রয়েছে। এই জোরপূর্বক বিয়ের কারণে দুটি সাজানো সংসার ভেঙে গেল। স্থানীয়রা এই দুটি সংসার ভাঙনের পেছনে আওয়ামী লীগ নেতা বজলু মিয়াকে দায়ী করে তাঁর কঠোর বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ওসি’র বক্তব্য: চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতনের ভিডিওটি তাঁদের নজরে এসেছে এবং এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কাজ করছে।





















