ফরিদপুরের ‘বকুল আপা’ নিঃস্ব, বকেয়া পেনশনে চোখ হারানোর শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৪:১৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 280
এক সময় গান, নাচ আর গজল গেয়ে স্কুলের কোমলমতি শিশুদের মুগ্ধ করে পাঠদান করাতেন। তাঁর ক্লাসে কখনো অনুপস্থিত থাকত না কোনো শিক্ষার্থী। ফরিদপুরের সেই জনপ্রিয় ‘বকুল আপা’ নামে পরিচিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ফাহমিদা খাতুন বকুল (৬৪) এখন চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পেনশনের বকেয়া টাকা আটকে যাওয়ায় এবং টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় তিনি এখন দুটি চোখ হারাতে বসেছেন।
ফরিদপুর শহরের ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই প্রাক্তন শিক্ষক ২০২০ সালে অবসরে যান।
‘বকুল আপা’: জনপ্রিয়তার নেপথ্যে
শিক্ষণ পদ্ধতি: ফাহমিদা খাতুন বকুল তাঁর আন্তরিকতা এবং অভিনব পাঠদান পদ্ধতির জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি নেচে, গান গেয়ে ও গজলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াতেন, যা শিশুদের স্কুলমুখী হতে অনুপ্রাণিত করত।
বিদ্যালয়ের ইতিহাস: ১৯৮৯ সালে ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০১৩ সালে স্কুলটি সরকারিকরণ করা হয়।
ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চঞ্চলা রানী সরকার বলেন, “বকুল আপা খুবই আন্তরিক একজন শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষার্থী সংগ্রহ থেকে শুরু করে স্কুল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। তাঁর ক্লাসের ধরণ দেখে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়তো।”
অন্ধত্বের শঙ্কা ও চিকিৎসার অভাব
অবসরের পর শারীরিক জটিলতা নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন শিক্ষিকা বকুল।
চোখ হারানোর ভয়: ফাহমিদা খাতুন বকুল জানান, বর্তমানে তাঁর দুটো চোখেই ছানি পড়েছে। দ্রুত অপারেশন করাতে না পারলে তিনি চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “দুটো চোখে ছানি পড়ায় প্রাণের স্কুলটা দেখতেও যেতে পারিনা। খুব কষ্ট হয়। কেউ যদি আমার চোখের ছানি অপারেশন করে দিতো, তবে আমি আবার চোখে দেখতে পারতাম।”
নানা রোগে জর্জরিত: এই শিক্ষিকা বলেন, তাঁর পুরো শরীরে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে, কিন্তু টাকার অভাবে তিনি চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
পেনশনের বকেয়া ৮ লাখ টাকা নিয়ে জটিলতা
বকুল আপার সবচেয়ে বড় আক্ষেপ তাঁর পাওনা পেনশনের অর্থ নিয়ে।
অর্থপ্রাপ্তি: তিনি জানান, পেনশনে যাওয়ার পর কাগজ-কলমে তাঁর ১৬ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি পেয়েছেন মাত্র ৮ লাখ টাকা।
বকেয়া টাকা: অদৃশ্য কারণে তাঁর বাকি ৮ লাখ টাকা আজও ভাগ্যে জোটেনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার বাকি টাকা মেরে দিয়েছে। সেই টাকার হিসেব আজও পাইনি। আমি সরকারের কাছে পেনশনের বাকী ৮ লাখ টাকা চাই, যাতে চিকিৎসা করাতে পারি।”
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
পেনশন জটিলতা প্রসঙ্গে শিক্ষা কর্মকর্তারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন:
সদর সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, পে স্কেলের কারণে বা স্কুলটি বেসরকারি থেকে জাতীয়করণ হওয়ায় শিক্ষিকা কম পেনশন পেয়েছেন কি না, তা যাচাই-বাছাই করে জানাতে পারবেন।
ফরিদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন, পেনশন নিয়ে ওই শিক্ষিকার কোনো জটিলতা রয়েছে কি-না, তা তিনি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।





















