ফরিদপুরে মাত্র ২০ টাকার জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন
- আপডেট সময় : ০৮:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 740
মাত্র ২০ টাকা ধার চাওয়া নিয়ে তর্কের জেরে বন্ধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে অপর এক মাদ্রাসাছাত্র। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চান্দড়া তা’লিমুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। নিখোঁজের পর ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় নিহত শিক্ষার্থী আমির হামজার (১৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ এবং হত্যাকারী কিশোর ফরহাদ রেজাকে (১৬) গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান।
যেভাবে খুন হলো বন্ধু
নিহত আমির হামজা আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের শুকুরহাটা গ্রামের সায়েমউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে এবং গ্রেপ্তারকৃত ফরহাদ রেজা চর চান্দড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ফকিরের ছেলে। তারা দুজনেই একই মাদ্রাসার একই ক্লাসের ছাত্র এবং ভালো বন্ধু ছিল।
হত্যাকাণ্ডের কারণ: পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শিক্ষার্থী আমির হামজার কাছ থেকে ফরহাদ রেজা মাঝেমধ্যেই টাকা ধার নিত। সর্বশেষ ৫০ টাকা ধারের মধ্যে ৩০ টাকা পরিশোধ করেছিল। ঘটনার দিন বাকি ২০ টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে তর্কে-বিতর্ক শুরু হয়।
আক্রোশ: টাকা ফেরত চাওয়ায় আমির হামজা ফরহাদকে গালিগালাজ করলে ফরহাদ প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়।
শ্বাসরোধ করে হত্যা: তর্কের একপর্যায়ে বাগানের কাছে পৌঁছালে ফরহাদ রেজা আমির হামজার গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
রহস্য উদ্ঘাটন ও লাশের আলামত গোপন
গত ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয় আমির হামজা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী একটি ডোবায় তার বস্তাবন্দি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
ক্লুলেস মামলা: আলফাডাঙ্গা থানার কাছে এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকান্ড ছিল। রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য চারটি আলাদা টিম গঠন করা হয়।
কাঁথার সূত্র: ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হত্যাকারী কিশোরের ব্যবহৃত একটি কাঁথার সূত্র ধরে পুলিশ ফরহাদ রেজাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
লাশ গুমের চেষ্টা: প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ জানায়, হত্যার পর সন্ধ্যায় সে মাদ্রাসার হাজিরা দিয়ে একটি কাঁথা নিয়ে আবার বাগানে যায়। এরপর নিজের বাড়ি থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তা এনে হামজার লাশ তার মধ্যে ঢোকায় এবং বস্তাটি পানিতে ডুবে রাখার জন্য পাঁচটি ইট ভরে দেয়। পরে বস্তাটি পুকুরে ফেলে দেয়।
মামলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ রেজা হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তবে এ হত্যার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলা দায়ের: নিহত হামজার বাবা সায়েমউদ্দিন বিশ্বাস বাদী হয়ে বুধবার দিবাগত রাতে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তার: আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃত কিশোরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।





















