৩৬ বছরেও ভবনহীন ফরিদপুরের ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি স্কুল
- আপডেট সময় : ১২:০৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
- / 443
ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রামের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘১১৯ নং ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর করুণ দশা। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও কোনো পাকা ভবন পায়নি। বর্তমানে টিনের জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ঘরেই চলছে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান।
বিদ্যালয়টির এই বেহাল দশার কারণে ধীরে ধীরে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অভিভাবকরা বলছেন, ঝুঁকির কারণে তারা ছেলেমেয়েদের অন্য স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।
গুচ্ছগ্রামের একমাত্র বিদ্যাপীঠের চিত্র
ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য ১৯৮৯ সালে ৮২টি বসতি নিয়ে ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম গঠিত হয়েছিল, যা ১৯৯০ সালে উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই গুচ্ছগ্রামের ছেলেমেয়েদের শিক্ষামুখী করার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিদ্যালয়।
ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান: সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিনের ঘরগুলো সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি এলে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে, এবং মাঝে মাঝে ভাঙাচোরা জিনিসপত্র শিক্ষার্থীদের মাথায় এসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। একাডেমিক ভবন ও সীমানা প্রাচীর না থাকায় কোমলমতি শিশুরা সবসময় আতঙ্কে থাকে।
শিক্ষার্থী হ্রাস: বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, একসময় এই স্কুলে ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করত। কিন্তু জরাজীর্ণ ঘর আর ভবনের অভাবে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে মাত্র শতাধিক-এ দাঁড়িয়েছে।
অভিভাবক হানিফ হোসেন আক্ষেপ করে জানান, “ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরের কারণে আমাদের ছেলেমেয়েদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে হচ্ছে। সরকার দ্রুত নতুন ভবনের ব্যবস্থা না করলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমে যাবে।”
কর্তৃপক্ষের আশ্বাস ও হতাশা
বিদ্যালয়ের ভবন সংকটের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য: প্রধান শিক্ষক চঞ্চলা রানী সরকার বলেন, “ভবন সংকটের কারণে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার মান ব্যাহত হচ্ছে। ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কাজ হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালে একটি ভবন বরাদ্দ হলেও ‘অদৃশ্য কারণে’ সেটি বাতিল হয়ে গেছে।
শিক্ষা অফিসের আশ্বাস: ফরিদপুর সদর সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, তারা ভবন নিয়ে উপর মহলে বারবার চিঠি দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “গত এক মাস আগে ওই স্কুলের ভবনের জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।”
জেলা কর্মকর্তার আশ্বাস: ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন, পিডিপি-০৪ ফাইল আগামী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। তখন তাঁরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই স্কুলের ভবন নির্মাণে ব্যবস্থা নিবেন।















