ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের চিঠি

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 12

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর এবং তাদের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত এই দুই পলাতক আসামির সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর করে রায়কে নিষ্ফল করে দেওয়ার আশঙ্কায় অনতিবিলম্বে তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কড়া চিঠি পাঠিয়েছে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। চিফ প্রসিকিউটরের স্বাক্ষরিত এই চিঠির অনুলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব এবং আইনমন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

বাজেয়াপ্তকরণের আদেশ ও আইনি প্রেক্ষাপট

চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের (২০২৫ সালের) ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ একটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই আসামির সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিলিবন্দোবস্ত করার যুগান্তকারী আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের সেই রায় ও আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।

চিঠিতে অত্যন্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, অনতিবিলম্বে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে না নিলে তাঁরা যেকোনো সময় তা ভোগ, বিক্রয় বা অন্য কোনো উপায়ে হস্তান্তর করে আদালতের রায় ও আদেশকে চিরতরে নিষ্ফল বা প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারেন। এমতাবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সমস্ত সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের ঘোষিত সম্পদের চিত্র

নির্বাচন কমিশনের জমা দেওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা এবং দুদক ও ভূমি কার্যালয়ের রেকর্ডপত্র ঘেঁটে এই দুই নেতার বিশাল সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

শেখ হাসিনার সম্পদ: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর হলফনামায় নিজের নামে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছিলেন। এর মধ্যে নগদ ছিল সাড়ে ২৮ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৫৫ লাখ টাকার এফডিআর। এছাড়া তিনটি মোটরগাড়ি (যার দুটির মূল্য সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা), সোনা ও মূল্যবান ধাতু ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার কথা উল্লেখ করা হয়। টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে তাঁর নামে ১৫.৩ বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। এছাড়া গাজীপুরের মৌচাকে রাজকীয় বাগানবাড়ির অংশ এবং ঢাকার পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লটসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে দুদকের মামলা চলমান।

আসাদুজ্জামান খানের সম্পদ: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় দাখিল করা হলফনামায় মোট ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকার (১০ ভরি সোনা বাদে) সম্পদের হিসাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে নগদ ৮৪ লাখ টাকার বেশি, ব্যাংকে ৮২ লাখ টাকা, বন্ড ও শেয়ার ২৪ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানত ছিল ২ কোটি ১ লাখ টাকা। তাঁর দুটি মোটরগাড়ির দাম দেখানো হয়েছিল ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কৃষিজমি ৫ বিঘার বেশি (১৭১ শতাংশ), অকৃষিজমি এবং গ্রামের বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টসহ বিপুল সম্পত্তির মালিক তিনি। জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের চিঠি

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর এবং তাদের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত এই দুই পলাতক আসামির সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর করে রায়কে নিষ্ফল করে দেওয়ার আশঙ্কায় অনতিবিলম্বে তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কড়া চিঠি পাঠিয়েছে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। চিফ প্রসিকিউটরের স্বাক্ষরিত এই চিঠির অনুলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব এবং আইনমন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

বাজেয়াপ্তকরণের আদেশ ও আইনি প্রেক্ষাপট

চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের (২০২৫ সালের) ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ একটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই আসামির সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিলিবন্দোবস্ত করার যুগান্তকারী আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের সেই রায় ও আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।

চিঠিতে অত্যন্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, অনতিবিলম্বে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে না নিলে তাঁরা যেকোনো সময় তা ভোগ, বিক্রয় বা অন্য কোনো উপায়ে হস্তান্তর করে আদালতের রায় ও আদেশকে চিরতরে নিষ্ফল বা প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারেন। এমতাবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সমস্ত সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের ঘোষিত সম্পদের চিত্র

নির্বাচন কমিশনের জমা দেওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা এবং দুদক ও ভূমি কার্যালয়ের রেকর্ডপত্র ঘেঁটে এই দুই নেতার বিশাল সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

শেখ হাসিনার সম্পদ: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর হলফনামায় নিজের নামে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছিলেন। এর মধ্যে নগদ ছিল সাড়ে ২৮ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৫৫ লাখ টাকার এফডিআর। এছাড়া তিনটি মোটরগাড়ি (যার দুটির মূল্য সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা), সোনা ও মূল্যবান ধাতু ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার কথা উল্লেখ করা হয়। টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে তাঁর নামে ১৫.৩ বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। এছাড়া গাজীপুরের মৌচাকে রাজকীয় বাগানবাড়ির অংশ এবং ঢাকার পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লটসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে দুদকের মামলা চলমান।

আসাদুজ্জামান খানের সম্পদ: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় দাখিল করা হলফনামায় মোট ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকার (১০ ভরি সোনা বাদে) সম্পদের হিসাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে নগদ ৮৪ লাখ টাকার বেশি, ব্যাংকে ৮২ লাখ টাকা, বন্ড ও শেয়ার ২৪ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানত ছিল ২ কোটি ১ লাখ টাকা। তাঁর দুটি মোটরগাড়ির দাম দেখানো হয়েছিল ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কৃষিজমি ৫ বিঘার বেশি (১৭১ শতাংশ), অকৃষিজমি এবং গ্রামের বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টসহ বিপুল সম্পত্তির মালিক তিনি। জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।