ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু জায়ান রহমান হত্যা রহস্য

ফরিদপুরে ঝুলন্ত মরদেহের রশির সূত্র ধরে প্রতিবেশী গ্রেফতার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 690

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় শিশু জায়ান রহমান (৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হওয়া চাঞ্চল্যের মধ্যে এক প্রতিবেশীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায়, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারে ব্যবহৃত রশির সূত্র ধরেই ইউনুচ মোল্যা নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইউনুচ মোল্যাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও রহস্যের মোড়

মরদেহ উদ্ধার: গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের গ্রিস প্রবাসী পলাশ মোল্যার ছেলে জায়ান রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়।

হত্যা মামলা: ওইদিনই নিহতের মা সিনথিয়া বেগম অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তের মূল সূত্র: মামলার তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে শিশুটির ঝুলন্ত রশিটি। পুলিশ ওই রশির আলামত ধরে তদন্তে অগ্রসর হতে থাকে।

রশি কেনার সূত্র ধরে গ্রেফতার

তদন্তে পুলিশ রশি কেনার সূত্র ধরে প্রতিবেশী ইউনুচ মোল্যার দিকে সন্দেহ প্রকাশ করে:

রশির সন্ধান: তদন্তে পার্শ্ববর্তী টাবনী বাজারের একটি মুদি দোকান থেকে রশিটি কেনার তথ্য পাওয়া যায়।

রশির মিল: পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে প্রতিবেশী ইউনুচ মোল্যা (পাকুড়িয়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন মোল্যার ছেলে) মফিজ খানের দোকান থেকে একই ধরনের রশি কিনেছিলেন, যার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া রশির মিল রয়েছে।

সন্দেহ ও অস্বীকার: এই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ প্রথমে ইউনুচ মোল্যাকে সোমবার (২৪ নভেম্বর) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে আনে। কিন্তু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রশি কেনার বিষয়টি অস্বীকার করেন, যা পুলিশের সন্দেহকে আরও জোরালো করে।

পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এই বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

ওসি’র বক্তব্য: ওসি মো. শাহজালাল আলম বলেন, “ঘটনার সঙ্গে কিছুটা সম্পৃক্ততা ও রশি কেনার বিষয়ে মিথ্যা বলার কারণে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এজন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

রিমান্ডের আবেদন: মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হবে।

শিশু জায়ান রহমান হত্যা রহস্য

ফরিদপুরে ঝুলন্ত মরদেহের রশির সূত্র ধরে প্রতিবেশী গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৮:২০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় শিশু জায়ান রহমান (৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হওয়া চাঞ্চল্যের মধ্যে এক প্রতিবেশীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায়, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারে ব্যবহৃত রশির সূত্র ধরেই ইউনুচ মোল্যা নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইউনুচ মোল্যাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও রহস্যের মোড়

মরদেহ উদ্ধার: গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের গ্রিস প্রবাসী পলাশ মোল্যার ছেলে জায়ান রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়।

হত্যা মামলা: ওইদিনই নিহতের মা সিনথিয়া বেগম অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তের মূল সূত্র: মামলার তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে শিশুটির ঝুলন্ত রশিটি। পুলিশ ওই রশির আলামত ধরে তদন্তে অগ্রসর হতে থাকে।

রশি কেনার সূত্র ধরে গ্রেফতার

তদন্তে পুলিশ রশি কেনার সূত্র ধরে প্রতিবেশী ইউনুচ মোল্যার দিকে সন্দেহ প্রকাশ করে:

রশির সন্ধান: তদন্তে পার্শ্ববর্তী টাবনী বাজারের একটি মুদি দোকান থেকে রশিটি কেনার তথ্য পাওয়া যায়।

রশির মিল: পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে প্রতিবেশী ইউনুচ মোল্যা (পাকুড়িয়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন মোল্যার ছেলে) মফিজ খানের দোকান থেকে একই ধরনের রশি কিনেছিলেন, যার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া রশির মিল রয়েছে।

সন্দেহ ও অস্বীকার: এই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ প্রথমে ইউনুচ মোল্যাকে সোমবার (২৪ নভেম্বর) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে আনে। কিন্তু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রশি কেনার বিষয়টি অস্বীকার করেন, যা পুলিশের সন্দেহকে আরও জোরালো করে।

পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এই বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

ওসি’র বক্তব্য: ওসি মো. শাহজালাল আলম বলেন, “ঘটনার সঙ্গে কিছুটা সম্পৃক্ততা ও রশি কেনার বিষয়ে মিথ্যা বলার কারণে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এজন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

রিমান্ডের আবেদন: মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হবে।