ফরিদপুরে পাইলিংয়ের সময় ধ্বসে পড়ল পাশের ভবনের একাংশ
- আপডেট সময় : ১২:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 351
ফরিদপুর শহরের বানিজ্যিক এলাকার স্বর্ণকারপট্টিতে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ করার সময় পাশের আরেকটি দ্বিতল ভবনের একাংশ ধ্বসে পড়েছে। এতে ভবনটিসহ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভবনে অবস্থিত আরএফএল কোম্পানির বেস্ট বাই শোরুম।
তবে এঘটনায় কোন মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি অনুমোদন ছাড়াই দোতলা এবং তিনতলার একাশংশের কাজ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবনমালিকের অভিযোগ, নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য নির্মাণাধীন ভবনমালিকদের বলা হলেও কর্ণপাত না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন।
এদিকে বহুতল ভবন নির্মাণকারীরাও দ্বিতল ভবনটি নিয়ম না মেনে দ্বিতল এবং তৃতীয় তলার একাংশের কাজ করে এবং বিল্ডিং এর চারিপাশে এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড় না দিয়ে অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ করেন।
এদিকে দুর্ঘটনাটির জন্য সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক ও ফরিদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি আমার জানা নেই, ভবন দুটির বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে বলা যাবে।
শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিলটুলি স্বর্ণকারপট্টির মুজিব সড়ক এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের একাধিক টিম।
সরেজমিন দেখা গেছে, একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ চলছিল। নির্মাণাধীন এই ভবনের মালিক স্থানীয় সঞ্জয় কর্মকার, অজয় কর্মকার। পাইলিংয়ের কাজ করার সময় পার্শ্ববর্তী ভবনসংলগ্ন কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা বা প্যারাসাইলিং ব্যবস্থা ছিল না। এই অবস্থায় পাইলিংয়ের (নিচের অংশ) কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিকেরা। হঠাৎ করেই ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে দৌড়ে সরে পড়েন নির্মাণশ্রমিক ও শোরুমটির কর্মচারীরা।
বেস্ট বাইয়ের কর্মীরা জানান, তারা সকালে এসে ফ্লোরের টাইলসে ফাটল দেখতে পান। ফাটল ধীরে ধীরে বড় হতে থাকলে ক্যাশ কাউন্টার টেবিলটা সরিয়ে ফেলেন, এর মধ্যেই ধসে পড়ে ভবনের এক পাশ।
ধসে পড়া ভবনের মালিক মনিরা খাতুনের দাবি, এ ঘটনায় তাঁর ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তিনি এর বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘বারবার নির্মাণাধীন ভবনমালিকদের সতর্ক করা হয়েছে এবং নিয়ম মেনে কাজ করতে বলেছি। কিন্তু তাঁরা রাতের আঁধারে আমার ভবনের নিচের মাটি সরিয়ে ফেলেছে, যার কারণে আজকের এই দুর্ঘটনা। পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী ৩ ফুট দূরত্ব রেখে কাজ করার কথা থাকলেও নিয়মের তোয়াক্কা না করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আজ সকালে উল্টো আমার কর্মচারীদের হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়।’
ঘটনাস্থলে ছুটে আসা শহরের বাসিন্দা ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোজাফফর আলী মুসা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘ভবন নির্মাণ করতে হলে পৌরসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হয় এবং তা সঠিকভাবে তদারকির দায়িত্ব তাদের। যদি সঠিকভাবে তদারকি হতো তাহলে এমন দুর্ঘটনা না-ও ঘটতে পারত।’
এ বিষয়ে জানতে নির্মাণাধীন ভবনমালিকদের একজন সঞ্জয় সাহা বলেন, আমরা পৌরসভার বিল্ডিং কোড মেনেই কাজ করে যাচ্ছি। প্রায় চার মাস আগে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা হয়। একই সাথে চারিপাশে সি-টু ফাইলও দেওয়া হয়। ভেঙ্গে পড়া ভবন মালিক আমার সাথে যোগাযোগ রেখে ছিলেন। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেই কাজ করছিলাম।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভবনটিই অনুমোদনহীন। বহু বছর আগে এই ভবনটি একতলা হিসেবে নির্মাণ করেন। এরপর শহরের বানিজ্যিক পরিবর্তনের সাথে তারা দোতলা সম্পন্ন করেন। কিছু বছর পরে তিন তলার একাংশের কাজ করে। যার কোন প্রকার অনুমোদন নেই পৌর কতৃপক্ষের। পুরোনো ভবনের উপর দোতলা ও তিন তলার কাজ করায় ভবনটির ভীত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা যখন ভবন নির্মাণ করে তখন এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড় দিয়ে ভবন নির্মাণ করে নি। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা আমাদের ভবনের কাজ করছিলাম। তারপরেও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে গেলো। একই সাথে ভবটিতে অতিরিক্ত পরিমাণ মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এর ফলে ভবনটিও তার ওয়েট ধরে রাখতে পারেনি।
তিনি জানান, দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশো হওয়া ভূমিকম্পেও ভবনটিতে ফাটল দেখা দেখ। তাদের এই দুর্বল ভবনটির কারনে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।
ঘটনাস্থলে আসা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মাসুদ আলম জানান, খবর পেয়ে তাঁরা এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তবে কোনো অভিযোগ পায়নি পুলিশ। অভিযোগ পেলে সেটা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











