ফরিদপুরে বিএনপিতে যোগ দিয়েই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নারীসহ আহত ১৫
- আপডেট সময় : ১২:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 543
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে সদ্য যোগদানকারী দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চুমুরদি ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘারুয়া ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীর এক নির্বাচনী সভায় স্থানীয় নেতা ইস্রাফিল মোল্যা ও ওয়াদুদ মোল্যা তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। ওই সভায় ইস্রাফিল মোল্যা দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য দিলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের এক যুবক বাধা দেন, যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
সংঘর্ষের বিবরণ:
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভার ওই বিরোধের জেরে বুধবার দুপুরে ইস্রাফিল মোল্যার ছোট ভাই জাকারিয়া মোল্যার ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। মুহূর্তের মধ্যে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত ও চিকিৎসা:
আহতদের মধ্যে জাকারিয়া মোল্যা (৩৭), জাহিদ মোল্যা (৩৮) ও লাভলী বেগমসহ (৪৫) পাঁচজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত থাকলেও তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য:
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাকারিয়া মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা আগে আওয়ামী লীগ করতাম, গতকাল সবাই বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। আমার ভাই সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা কটাক্ষ করে। আজ আমাকে একা পেয়ে তারা কুপিয়েছে এবং আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে।”
পুলিশের পদক্ষেপ:
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















