ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইকোনমিস্টের পূর্বাভাস: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষে তারেক রহমান

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 219

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সংখ্যায় তারা জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান।

📊 ‘বিপ্লব’ পরবর্তী প্রথম নির্বাচন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার (জেনারেশন জেড) ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সেই ‘বিপ্লবের’ ১৮ মাস পর এই প্রথম দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইকোনমিস্টের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরই উন্নতি ঘটাবে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করবে এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে সহায়ক হবে।

🏛️ অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও আগামীর সম্ভাবনা

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করে সাময়িকীটি জানায়, এই সরকার দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সফল হয়েছে। তাদের অন্যতম বড় কাজ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মিলে এমন কিছু সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ বন্ধ করবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

সংসদে একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে (দুই টার্ম) সীমাবদ্ধ করা।

📈 জনমত জরিপে এগিয়ে বিএনপি

ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে শহুরে মধ্যবিত্তের মনে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, জনমত জরিপে বিএনপি বর্তমানে সব দলের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাস জীবন এবং দেশে ফেরার সময়ের ব্যাপক জনসমাগমই প্রমাণ করে যে তার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে।

🌱 তারেক রহমানের আগামীর কর্মপরিকল্পনা

নির্বাচিত হলে তারেক রহমান কী কী করবেন, তার একটি রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে:

কর্মসংস্থান: বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় নতুন কর্মসংস্থান এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ।

পরিবেশ ও কৃষি: পানি সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের হোতাদের বিচার।

প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার না করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

প্রতিবেদনটির শেষে মন্তব্য করা হয় যে, লন্ডন থেকে ফিরে আসা তারেক রহমানকে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ও বাস্তববাদী মনে হচ্ছে, যা ভোটারদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

ইকোনমিস্টের পূর্বাভাস: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষে তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০১:২৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সংখ্যায় তারা জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান।

📊 ‘বিপ্লব’ পরবর্তী প্রথম নির্বাচন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার (জেনারেশন জেড) ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সেই ‘বিপ্লবের’ ১৮ মাস পর এই প্রথম দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইকোনমিস্টের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরই উন্নতি ঘটাবে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করবে এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে সহায়ক হবে।

🏛️ অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও আগামীর সম্ভাবনা

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করে সাময়িকীটি জানায়, এই সরকার দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সফল হয়েছে। তাদের অন্যতম বড় কাজ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মিলে এমন কিছু সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ বন্ধ করবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

সংসদে একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে (দুই টার্ম) সীমাবদ্ধ করা।

📈 জনমত জরিপে এগিয়ে বিএনপি

ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে শহুরে মধ্যবিত্তের মনে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, জনমত জরিপে বিএনপি বর্তমানে সব দলের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাস জীবন এবং দেশে ফেরার সময়ের ব্যাপক জনসমাগমই প্রমাণ করে যে তার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে।

🌱 তারেক রহমানের আগামীর কর্মপরিকল্পনা

নির্বাচিত হলে তারেক রহমান কী কী করবেন, তার একটি রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে:

কর্মসংস্থান: বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় নতুন কর্মসংস্থান এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ।

পরিবেশ ও কৃষি: পানি সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের হোতাদের বিচার।

প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার না করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

প্রতিবেদনটির শেষে মন্তব্য করা হয় যে, লন্ডন থেকে ফিরে আসা তারেক রহমানকে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ও বাস্তববাদী মনে হচ্ছে, যা ভোটারদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।