ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে চুরির অপবাদে পাহারাদারের আত্মহত্যা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 413

ফরিদপুর ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দোকান চুরির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি ও অপমানের গ্লানি সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন ওয়াহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক নৈশপ্রহরী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ওয়াহিদুল উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মৃত নজরুল শেখের ছেলে। তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা এবং মাত্র চার মাস বয়সী যমজ দুই পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

যেভাবে শুরু ঘটনার

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহিদুল বড়দিয়া বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করতেন। গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তার ডিউটি শেষে বাজারে একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই বাজার কমিটি তাকে চুরির মালামালের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল।

নিহতের স্ত্রী জোস্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন

“আমার স্বামী বলতেন—জরিমানা দেবো কোথা থেকে? শরমের চেয়ে মরণ ভালো। তিনি বারবার বলতেন, আমি কিছু জানি না, তবুও আমাকে দোষ দিচ্ছে।”

সালিশের মাঝেই বিষপান

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চুরির ঘটনা নিয়ে বাজারে একটি সালিশি বৈঠক বসে। বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার ও অন্য নেতাদের উপস্থিতিতে পাহারাদারদের জানানো হয়, চোর ধরা না গেলে চুরি হওয়া প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ তাদেরই দিতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু জানান, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওয়াহিদুল এক মিনিট সময় নিয়ে আড়ালে যান। ফিরে এসে নিজের তিন সন্তানের কথা বলে কসম কাটেন যে তিনি চুরির বিষয়ে কিছু জানেন না। এ কথা বলেই তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন। পরে জানা যায়, তিনি আড়ালে গিয়ে বিষপান করেছিলেন।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার দাবি করেন, তাকে কোনো অপবাদ দেওয়া হয়নি, কেবল পাহারাদার হিসেবে দায়বদ্ধতার কথা বলা হয়েছিল এবং দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে বাজারে টাকা তোলার দায়িত্বে থাকা আজাদ মোল্যা জানান, সভাপতির নির্দেশে পাহারাদারদেরই সব টাকা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছিল।

পুলিশের বক্তব্য

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি অবগত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে চুরির অপবাদে পাহারাদারের আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ১০:৪১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুর ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দোকান চুরির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি ও অপমানের গ্লানি সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন ওয়াহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক নৈশপ্রহরী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ওয়াহিদুল উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মৃত নজরুল শেখের ছেলে। তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা এবং মাত্র চার মাস বয়সী যমজ দুই পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

যেভাবে শুরু ঘটনার

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহিদুল বড়দিয়া বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করতেন। গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তার ডিউটি শেষে বাজারে একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই বাজার কমিটি তাকে চুরির মালামালের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল।

নিহতের স্ত্রী জোস্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন

“আমার স্বামী বলতেন—জরিমানা দেবো কোথা থেকে? শরমের চেয়ে মরণ ভালো। তিনি বারবার বলতেন, আমি কিছু জানি না, তবুও আমাকে দোষ দিচ্ছে।”

সালিশের মাঝেই বিষপান

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চুরির ঘটনা নিয়ে বাজারে একটি সালিশি বৈঠক বসে। বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার ও অন্য নেতাদের উপস্থিতিতে পাহারাদারদের জানানো হয়, চোর ধরা না গেলে চুরি হওয়া প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ তাদেরই দিতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু জানান, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওয়াহিদুল এক মিনিট সময় নিয়ে আড়ালে যান। ফিরে এসে নিজের তিন সন্তানের কথা বলে কসম কাটেন যে তিনি চুরির বিষয়ে কিছু জানেন না। এ কথা বলেই তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন। পরে জানা যায়, তিনি আড়ালে গিয়ে বিষপান করেছিলেন।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার দাবি করেন, তাকে কোনো অপবাদ দেওয়া হয়নি, কেবল পাহারাদার হিসেবে দায়বদ্ধতার কথা বলা হয়েছিল এবং দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে বাজারে টাকা তোলার দায়িত্বে থাকা আজাদ মোল্যা জানান, সভাপতির নির্দেশে পাহারাদারদেরই সব টাকা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছিল।

পুলিশের বক্তব্য

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি অবগত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।