ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে আ’লীগ অফিসে পতাকা উত্তোলন: ওসির মুখে ‘জানি না রে ভাই

তথ্যসূত্র: আমার দেশ
  • আপডেট সময় : ১১:২১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 553

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার একদম পাশেই অবস্থিত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শহর কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এই কর্মসূচি পালন করেন বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ভিডিওতে দৃশ্যমান প্রত্যেকেই জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি।

ভিডিওতে যা দেখা গেছে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফরিদপুর শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি কাওছার আকন্দ, জেলা যুবলীগের সদস্য হিমেল, মাহফুজ এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি দেবাশীষ নয়নসহ আরও বেশ কিছু নেতাকর্মী পতাকা উত্তোলন করছেন।

এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। পতাকা উত্তোলন শেষে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

কার নির্দেশে এই কর্মসূচি? পতাকা উত্তোলনের সময় দেবাশীষ নয়নকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়:

“মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন ভাইয়ের নির্দেশে এবং হাসিবুর রহমান ফারহান ও কাউসারের নেতৃত্বে আমরা আওয়ামী লীগের অফিস নতুন করে খুললাম এবং পতাকা উত্তোলন করলাম।”

থানার পাশে ঘটনা, অথচ ওসি ‘জানেন না’ নিষিদ্ধ একটি দলের কার্যালয় এবং পলাতক আসামিদের এমন প্রকাশ্য কর্মসূচি নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অফিসটি ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার একদম গেইট সংলগ্ন হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি রহস্যময় আচরণ করেন। তিনি বলেন, “বিষয়টা আমি জানি না।” থানা গেইটের পাশেই ঘটনা অথচ আপনি জানেন না কেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিরক্তির সুরে বলেন, “আমি জানি না রে ভাই, আমি জানি না” বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং হত্যা মামলার পলাতক আসামিরা দিনের আলোতে এমন দুঃসাহস দেখানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৫ই আগস্টের পর থেকে বন্ধ থাকা এই অফিসটি হঠাৎ খুলে দেওয়ায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুরে আ’লীগ অফিসে পতাকা উত্তোলন: ওসির মুখে ‘জানি না রে ভাই

আপডেট সময় : ১১:২১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার একদম পাশেই অবস্থিত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শহর কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এই কর্মসূচি পালন করেন বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ভিডিওতে দৃশ্যমান প্রত্যেকেই জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি।

ভিডিওতে যা দেখা গেছে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফরিদপুর শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি কাওছার আকন্দ, জেলা যুবলীগের সদস্য হিমেল, মাহফুজ এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি দেবাশীষ নয়নসহ আরও বেশ কিছু নেতাকর্মী পতাকা উত্তোলন করছেন।

এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। পতাকা উত্তোলন শেষে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

কার নির্দেশে এই কর্মসূচি? পতাকা উত্তোলনের সময় দেবাশীষ নয়নকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়:

“মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন ভাইয়ের নির্দেশে এবং হাসিবুর রহমান ফারহান ও কাউসারের নেতৃত্বে আমরা আওয়ামী লীগের অফিস নতুন করে খুললাম এবং পতাকা উত্তোলন করলাম।”

থানার পাশে ঘটনা, অথচ ওসি ‘জানেন না’ নিষিদ্ধ একটি দলের কার্যালয় এবং পলাতক আসামিদের এমন প্রকাশ্য কর্মসূচি নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অফিসটি ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার একদম গেইট সংলগ্ন হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি রহস্যময় আচরণ করেন। তিনি বলেন, “বিষয়টা আমি জানি না।” থানা গেইটের পাশেই ঘটনা অথচ আপনি জানেন না কেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিরক্তির সুরে বলেন, “আমি জানি না রে ভাই, আমি জানি না” বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং হত্যা মামলার পলাতক আসামিরা দিনের আলোতে এমন দুঃসাহস দেখানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৫ই আগস্টের পর থেকে বন্ধ থাকা এই অফিসটি হঠাৎ খুলে দেওয়ায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।