ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ৬১ বছরেও অচেনা বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র: সেবাবঞ্চিত লক্ষাধিক শিক্ষার্থী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / 217

ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম মুজিব সড়কের পাশে জেলা কারাগার ও ম্যাটসের পাশেই অবস্থান ‘বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র’টির। দীর্ঘ ৬১ বছর আগে (১৯৬৫ সালে) প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও, প্রচার ও সচেতনতার অভাবে এটি এখন শিক্ষার্থীদের কাছে প্রায় অচেনা। এমনকি মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও জানে না এর অস্তিত্বের কথা।

শিক্ষার্থীদের অজানা:

ঈশান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মাহিরা তাসনিম বিস্ময় প্রকাশ করে বলে, “আমি এই প্রথম বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নাম শুনলাম!” তার মতে, মেয়েদের অনেক ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে যা কাউকে বলা যায় না, এই কেন্দ্রটি পরিচিত হলে তারা সেখানে গিয়ে সেবা নিতে পারত। শুধু মাহিরা নয়, জেলার প্রায় ১৪শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর চিত্রও একই।

পরিসংখ্যান ও জনবল সংকট:

স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র ৪০৬ জন শিক্ষার্থী এখানে সেবা নিয়েছে। অথচ জেলায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক লাখ। বর্তমানে দু’জন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন। এছাড়া একজন নার্স ও একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে বিশাল এই শিক্ষার্থীর সেবার কাজ, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

সমন্বয়ের অভাব:

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, অনেক শিক্ষকও এই কেন্দ্রের ব্যাপারে পুরোপুরি জানেন না। বিদ্যালয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সঠিক সমন্বয় না থাকায় এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিবও জানান, নাম শুনলেও কখনো সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন বা সুযোগ তৈরি হয়নি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. এজিনা সুলতানা জানান, তারা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন এবং পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “সদর হাসপাতালের পাশে হওয়ায় এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম হয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি জেলার সব শিক্ষার্থী যাতে এই কেন্দ্রের সেবা নিতে পারে।”

ফরিদপুরে ৬১ বছরেও অচেনা বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র: সেবাবঞ্চিত লক্ষাধিক শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ০৭:০৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম মুজিব সড়কের পাশে জেলা কারাগার ও ম্যাটসের পাশেই অবস্থান ‘বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র’টির। দীর্ঘ ৬১ বছর আগে (১৯৬৫ সালে) প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও, প্রচার ও সচেতনতার অভাবে এটি এখন শিক্ষার্থীদের কাছে প্রায় অচেনা। এমনকি মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও জানে না এর অস্তিত্বের কথা।

শিক্ষার্থীদের অজানা:

ঈশান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মাহিরা তাসনিম বিস্ময় প্রকাশ করে বলে, “আমি এই প্রথম বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নাম শুনলাম!” তার মতে, মেয়েদের অনেক ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে যা কাউকে বলা যায় না, এই কেন্দ্রটি পরিচিত হলে তারা সেখানে গিয়ে সেবা নিতে পারত। শুধু মাহিরা নয়, জেলার প্রায় ১৪শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর চিত্রও একই।

পরিসংখ্যান ও জনবল সংকট:

স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র ৪০৬ জন শিক্ষার্থী এখানে সেবা নিয়েছে। অথচ জেলায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক লাখ। বর্তমানে দু’জন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন। এছাড়া একজন নার্স ও একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে বিশাল এই শিক্ষার্থীর সেবার কাজ, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

সমন্বয়ের অভাব:

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, অনেক শিক্ষকও এই কেন্দ্রের ব্যাপারে পুরোপুরি জানেন না। বিদ্যালয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সঠিক সমন্বয় না থাকায় এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিবও জানান, নাম শুনলেও কখনো সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন বা সুযোগ তৈরি হয়নি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. এজিনা সুলতানা জানান, তারা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন এবং পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “সদর হাসপাতালের পাশে হওয়ায় এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম হয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি জেলার সব শিক্ষার্থী যাতে এই কেন্দ্রের সেবা নিতে পারে।”