ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ভুতুড়ে কাণ্ড: ১৬০ কেজি চালের বরাদ্দ, হয়ে গেল ৬০ কেজি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / 246

ফরিদপুর সদর উপজেলায় মৎস্যজীবীদের জন্য সরকার নির্ধারিত ভিজিএফ-এর চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ১৬০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও মৎস্যজীবীদের হাতে পৌঁছেছে মাত্র ৬০ কেজি। বাকি ১০০ কেজি চাল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় এই চিত্র দেখা যায়।

ভয় ও বঞ্চনার শিকার মৎস্যজীবীরা:

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জীবন ধারণের জন্য মৎস্যজীবীদের এই চাল দেওয়া হলেও বিতরণে চলছে নয়ছয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৎস্যজীবী জানান, অভিযোগ করলে কার্ড বাতিল হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা মুখ খুলতে পারছেন না। তাদের দাবি, ১৬০ কেজি বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশকেই দেওয়া হচ্ছে ৬০ কেজি, এমনকি কোথাও তার চেয়েও কম।

সরেজমিন চিত্র ও অনিয়ম:

চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কোনো প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ চালের বস্তা ছিল কাটাছেঁড়া। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান তড়িঘড়ি করে কয়েকজন নতুন কার্ডধারীকে দুই বস্তা করে চাল দিলেও বাকিদের ক্ষেত্রে হিসাব মেলেনি।

উধাও বিপুল পরিমাণ চাল:

সদর উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৬৫৩ জন মৎস্যজীবীর জন্য মোট ১০৪.৪৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু ৬০ কেজি করে বিতরণ করায় প্রায় ৩৯.১৮ মেট্রিক টন চালের কোনো সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য:

চরমাধবদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. তুহিনুর রহমান মণ্ডল খোকন জানান, বরাদ্দ কম আসায় মানবিক কারণে সবার মাঝে ভাগ করে ৬০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শিরীন শারমিন খান জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী চাল বণ্টন করার নির্দেশনা থাকলেও ওজনে কম দেওয়া বা অনিয়মের দায়ভার চেয়ারম্যানদের ওপরই বর্তায়।

ফরিদপুরে ভুতুড়ে কাণ্ড: ১৬০ কেজি চালের বরাদ্দ, হয়ে গেল ৬০ কেজি

আপডেট সময় : ০২:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুর সদর উপজেলায় মৎস্যজীবীদের জন্য সরকার নির্ধারিত ভিজিএফ-এর চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ১৬০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও মৎস্যজীবীদের হাতে পৌঁছেছে মাত্র ৬০ কেজি। বাকি ১০০ কেজি চাল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় এই চিত্র দেখা যায়।

ভয় ও বঞ্চনার শিকার মৎস্যজীবীরা:

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জীবন ধারণের জন্য মৎস্যজীবীদের এই চাল দেওয়া হলেও বিতরণে চলছে নয়ছয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৎস্যজীবী জানান, অভিযোগ করলে কার্ড বাতিল হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা মুখ খুলতে পারছেন না। তাদের দাবি, ১৬০ কেজি বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশকেই দেওয়া হচ্ছে ৬০ কেজি, এমনকি কোথাও তার চেয়েও কম।

সরেজমিন চিত্র ও অনিয়ম:

চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কোনো প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ চালের বস্তা ছিল কাটাছেঁড়া। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান তড়িঘড়ি করে কয়েকজন নতুন কার্ডধারীকে দুই বস্তা করে চাল দিলেও বাকিদের ক্ষেত্রে হিসাব মেলেনি।

উধাও বিপুল পরিমাণ চাল:

সদর উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৬৫৩ জন মৎস্যজীবীর জন্য মোট ১০৪.৪৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু ৬০ কেজি করে বিতরণ করায় প্রায় ৩৯.১৮ মেট্রিক টন চালের কোনো সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য:

চরমাধবদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. তুহিনুর রহমান মণ্ডল খোকন জানান, বরাদ্দ কম আসায় মানবিক কারণে সবার মাঝে ভাগ করে ৬০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শিরীন শারমিন খান জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী চাল বণ্টন করার নির্দেশনা থাকলেও ওজনে কম দেওয়া বা অনিয়মের দায়ভার চেয়ারম্যানদের ওপরই বর্তায়।