ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি রেটে জিলাপি কত?: এক প্রশ্নেই দেশজুড়ে ভাইরাল তাজু

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / 226

“জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? সাদাডা কত, লালডা কত? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হইতাম”—সাধারণ এক দোকানিকে করা এই সহজ-সরল প্রশ্নটিই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুফান তুলেছে। এই এক ভিডিওর মাধ্যমেই রাতারাতি তারকা বনে গেছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম, যাকে নেটিজেনরা এখন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামেই চিনছেন।

অজপাড়াগাঁ থেকে ভাইরাল হওয়ার গল্প

কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল। চরম অভাব-অনটনের কারণে কোনোদিন স্কুলের বারান্দায় পা রাখা হয়নি তার। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার) হলেও শখের বশে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কাজের ফাঁকে মজার ভিডিও তৈরি করেন তিনি। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় বাজারে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও করার সময় তার করা ‘সরকারি রেটে জিলাপি’র প্রশ্নটি মুহূর্তেই দেশজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।

ফলোয়ারের জোয়ার ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভাইরাল হওয়ার আগে তার ফেসবুক পেজে ফলোয়ার ছিল মাত্র ৬ হাজার, যা বর্তমানে হুহু করে বেড়ে ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জিলাপি বিক্রির ওই ভিডিওটি এরই মধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ দেখেছেন। নেটিজেনদের একদল তার এই সরল উপস্থাপনার প্রশংসা করলেও, অন্য একটি পক্ষ তাকে নিয়ে ট্রল বা ব্যঙ্গ করছেন। তবে এসব নিয়ে মোটেও বিচলিত নন তাইজুল।

পরিবারের হাল ও আগামীর স্বপ্ন

ছয় ভাই-বোনের মধ্যে বড় তাইজুলের বাবা-মা দুজনেই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের অভাব আর দুঃখ ভুলতেই মূলত তিনি ভিডিও তৈরি শুরু করেন। তাইজুল বলেন, “আমি সাংবাদিক না, বোকাসোকা মানুষ। আমাদের চরাঞ্চলে সাংবাদিকরা খবর নিতে আসে না, তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমাকে নিয়ে ট্রল করলেও আমার কষ্ট নেই, আমি শুধু চাই আমাদের চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।”

নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছেলেটি আমার পরিষদের সামনেই থাকে। সে যে এভাবে ভিডিও করে দেশজুড়ে ভাইরাল হয়েছে, তা সত্যিই অভাবনীয়।

সরকারি রেটে জিলাপি কত?: এক প্রশ্নেই দেশজুড়ে ভাইরাল তাজু

আপডেট সময় : ০১:২৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

“জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? সাদাডা কত, লালডা কত? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হইতাম”—সাধারণ এক দোকানিকে করা এই সহজ-সরল প্রশ্নটিই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুফান তুলেছে। এই এক ভিডিওর মাধ্যমেই রাতারাতি তারকা বনে গেছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম, যাকে নেটিজেনরা এখন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামেই চিনছেন।

অজপাড়াগাঁ থেকে ভাইরাল হওয়ার গল্প

কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল। চরম অভাব-অনটনের কারণে কোনোদিন স্কুলের বারান্দায় পা রাখা হয়নি তার। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার) হলেও শখের বশে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কাজের ফাঁকে মজার ভিডিও তৈরি করেন তিনি। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় বাজারে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও করার সময় তার করা ‘সরকারি রেটে জিলাপি’র প্রশ্নটি মুহূর্তেই দেশজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।

ফলোয়ারের জোয়ার ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভাইরাল হওয়ার আগে তার ফেসবুক পেজে ফলোয়ার ছিল মাত্র ৬ হাজার, যা বর্তমানে হুহু করে বেড়ে ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জিলাপি বিক্রির ওই ভিডিওটি এরই মধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ দেখেছেন। নেটিজেনদের একদল তার এই সরল উপস্থাপনার প্রশংসা করলেও, অন্য একটি পক্ষ তাকে নিয়ে ট্রল বা ব্যঙ্গ করছেন। তবে এসব নিয়ে মোটেও বিচলিত নন তাইজুল।

পরিবারের হাল ও আগামীর স্বপ্ন

ছয় ভাই-বোনের মধ্যে বড় তাইজুলের বাবা-মা দুজনেই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের অভাব আর দুঃখ ভুলতেই মূলত তিনি ভিডিও তৈরি শুরু করেন। তাইজুল বলেন, “আমি সাংবাদিক না, বোকাসোকা মানুষ। আমাদের চরাঞ্চলে সাংবাদিকরা খবর নিতে আসে না, তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমাকে নিয়ে ট্রল করলেও আমার কষ্ট নেই, আমি শুধু চাই আমাদের চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।”

নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছেলেটি আমার পরিষদের সামনেই থাকে। সে যে এভাবে ভিডিও করে দেশজুড়ে ভাইরাল হয়েছে, তা সত্যিই অভাবনীয়।