ফরিদপুরে ফুটবল খেলা নিয়ে এলাহী কাণ্ড: আটক ৪
- আপডেট সময় : ০৩:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 217
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৮টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত শনিবার দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটের আঘাতে ৩ পুলিশ সদস্য ও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এছাড়া নারী-পুরুষসহ দুই পক্ষের অন্তত শতাধিক গ্রামবাসী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও ডিবি’র পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুদিন আগে ফুটবল খেলার মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোরকে প্রতিবেশী গ্রামের কয়েকজন যুবক মারধর করে। এই ঘটনার জেরে শুক্রবার বিকেলে মুনসুরাবাদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়াকে লাঞ্ছিত করা হয়। এর পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শুক্রবার রাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে ৪ গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
রণক্ষেত্রে ৮ গ্রাম:
শনিবার সকাল ৭টা থেকে সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পায়। মুনসুরাবাদ গ্রামের বিপরীতে খাপুরা, সিংগারডাক, মাঝিকান্দা, ভীমেরকান্দি, ছোট হামেরদী, হামেরদী ও গুপিনাথপুর—এই ৭টি গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে হামলায় অংশ নেয়। ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টানা ৫ ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ চলে। এসময় বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
হতাহত ও চিকিৎসা:
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম জানান, দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ৪৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিলে অতিরিক্ত এক প্লাটুন পুলিশ, ডিবি ও সেনাবাহিনী তলব করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজোয়ান দিপু জানান, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।




















