ফরিদপুরে দুই মোড়লের দ্বন্দ্ব, ভাঙচুর ও সংঘর্ষে থমথমে অবস্থা
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 297
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রাম্য মোড়লের দ্বন্দ্বের জেরে প্রায়ই সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটছে। দফায় দফায় হামলা ও পাল্টা হামলায় ভাঙচুর করা হচ্ছে শত শত বসতবাড়ি। আহত হচ্ছেন অসংখ্য নিরীহ মানুষ। সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) সকালে উপজেলার মিরের গট্টি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পটভূমি ও আধিপত্যের লড়াই:
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ইউপি সদস্য ও গ্রাম্য মোড়ল নুরু মাতুব্বর এবং বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। একসময় তারা উভয়েই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর তারা বিএনপিতে যোগ দিয়ে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
এলাকাবাসী জানান, বিরোধের জের ধরে গত রবিবার (৩ মে) দুপুরে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর সোমবার সকালে নুরু মাতুব্বরের ছেলে রাজিব মাতুব্বরকে (৩২) কুপিয়ে আহত করার পর নুরুর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জাহিদের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষোভ:
স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীদের মতে, এই দুই মোড়লের কারণে গট্টি, বালিয়া, আড়ুয়াকান্দী, মিরের গট্টি ও কানৈড় গ্রামের সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। নুরু ও জাহিদের সমর্থক না হলে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সহিংসতা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
নুরু মাতুব্বর:
“এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাহিদ ও আজাদ মাতুব্বরের সমর্থকরা আমাদের ১০–১২ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে পঙ্গু করে ফেলেছে। আজও আমার ছেলেসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।”
জাহিদ মাতুব্বর:
“আমার কোনো সমর্থক নেই। আমি অসুস্থ এবং এখন কোনো রাজনীতি বা মাতুব্বরির সঙ্গে জড়িত নই।”
সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান:
“দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে।”
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন:
“এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।”
















