ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সালিশ বৈঠকে কিশোরের গোপনাঙ্গ চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 131

ফরিদপুর জেলা সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে পূর্ব বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে এক কিশোরের গোপনাঙ্গ চেপে ধরে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই কিশোর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনার পটভূমি:

শনিবার (২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর কালিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত কিশোর ওই এলাকার আজাদ মৃধার ছেলে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী বিল্লাল মৃধা ও আনোয়ার মৃধাদের সঙ্গে আজাদের পরিবারের জমিজমা ও তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং থানায় পাল্টাপাল্টি মামলাও রয়েছে।

যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটে:

বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে শনিবার দুপুরে স্থানীয় নুরুদ্দিন শেখের বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একেএম বাদশা মিয়া ও ইউপি সদস্য আজিজুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ভোলা মোল্যা নামের এক ব্যক্তি ওই কিশোরের গোপনাঙ্গ চেপে ধরেন, যার ফলে সে বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা আজাদ মৃধা:

“তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। সালিশে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ছেলেকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে অণ্ডকোষ চেপে ধরা হয়। আমার ছেলের জীবন শেষ করে দেওয়া হয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযুক্ত পক্ষের বিল্লাল মৃধা:

“ছেলেটির সঙ্গে যা হয়েছে তা অবশ্যই অন্যায় হয়েছে। সালিশে সবকিছু নিয়ে মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যায়ে আমার এক আত্মীয় তর্কে জড়িয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে।”

ইউপি চেয়ারম্যান একেএম বাদশা মিয়া:

“বিরোধ মেটাতে সালিশ ডাকা হয়েছিল এবং বিষয়টি মীমাংসাও হয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যায়ে কোলাকুলি করার সময় এই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটে।”

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান:

“এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ফরিদপুরে সালিশ বৈঠকে কিশোরের গোপনাঙ্গ চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা

আপডেট সময় : ১২:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ফরিদপুর জেলা সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে পূর্ব বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে এক কিশোরের গোপনাঙ্গ চেপে ধরে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই কিশোর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনার পটভূমি:

শনিবার (২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর কালিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত কিশোর ওই এলাকার আজাদ মৃধার ছেলে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী বিল্লাল মৃধা ও আনোয়ার মৃধাদের সঙ্গে আজাদের পরিবারের জমিজমা ও তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং থানায় পাল্টাপাল্টি মামলাও রয়েছে।

যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটে:

বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে শনিবার দুপুরে স্থানীয় নুরুদ্দিন শেখের বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একেএম বাদশা মিয়া ও ইউপি সদস্য আজিজুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ভোলা মোল্যা নামের এক ব্যক্তি ওই কিশোরের গোপনাঙ্গ চেপে ধরেন, যার ফলে সে বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা আজাদ মৃধা:

“তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। সালিশে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ছেলেকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে অণ্ডকোষ চেপে ধরা হয়। আমার ছেলের জীবন শেষ করে দেওয়া হয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযুক্ত পক্ষের বিল্লাল মৃধা:

“ছেলেটির সঙ্গে যা হয়েছে তা অবশ্যই অন্যায় হয়েছে। সালিশে সবকিছু নিয়ে মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যায়ে আমার এক আত্মীয় তর্কে জড়িয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে।”

ইউপি চেয়ারম্যান একেএম বাদশা মিয়া:

“বিরোধ মেটাতে সালিশ ডাকা হয়েছিল এবং বিষয়টি মীমাংসাও হয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যায়ে কোলাকুলি করার সময় এই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটে।”

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান:

“এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”