ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ধর্ষণচেষ্টার ২০ হাজার টাকায় দফারফা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / 92

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক কিশোরীর ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে অভিযুক্তকে জরিমানা করে বিষয়টি মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৩ মে) গভীর রাতে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গুচ্ছগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, নির্ধারিত জরিমানার পুরো টাকাও তারা পায়নি।

⚖️ সালিশের সিদ্ধান্ত ও টাকার অভিযোগ

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সালিশ-বৈঠকে অভিযুক্তকে প্রকাশ্যে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মাতব্বররা গোপনে তার কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা আদায় করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারকে মাত্র ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, বাকিটা পরে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
এ নিয়ে এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

⚠️ ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ

কিশোরীর পরিবারের দাবি, সালিশের সিদ্ধান্ত না মানলে তাদের গ্রামছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

👧 কিশোরীর পরিচয় ও পারিবারিক অবস্থা

ভুক্তভোগী কিশোরী (১২) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা ভ্যানচালক এবং মা অসুস্থ। বাবা ও দাদির সঙ্গে সে গুচ্ছগ্রামে বসবাস করে।
অভিযুক্ত দেলোয়ার (৫৫) একই এলাকার গ্যারেজমিস্ত্রি, যাকে মেয়েটি ‘দাদা’ বলে ডাকত।

🚨 ঘটনার বর্ণনা

কিশোরীর ভাষ্যমতে, তার বাবা অভিযুক্ত দেলোয়ারের ভ্যান ভাড়ায় চালাতেন। এই সুযোগে দেলোয়ার প্রায়ই ফাঁকা ঘরে ঢুকে তাকে কুপ্রস্তাব দিতেন এবং কথা না শুনলে তার বাবার কাছ থেকে ভ্যান কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিতেন।
গত ২৫ এপ্রিল রাতে, মেয়েটি একা থাকাকালে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দেলোয়ার ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন।

🧑‍⚖️ সালিশ বৈঠকের বিবরণ

ঘটনা জানাজানি হলে রোববার রাত ৯টার দিকে সালিশ-বৈঠক বসে। এতে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাবর আলী মাতুব্বর ও গুচ্ছগ্রামের সভাপতি কাসেম আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে দেলোয়ারকে দায়ী করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে একটি স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়।

😟 এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রকাশ্যে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেখালেও গোপনে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে। এতে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

👵 পরিবারের দুশ্চিন্তা

ভুক্তভোগী কিশোরীর দাদি বলেন, এ ঘটনার পর তারা মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে তার বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে।

🗣️ অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

অভিযুক্ত দেলোয়ার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি ন্যায়বিচার চান।
অন্যদিকে, গুচ্ছগ্রামের সভাপতি কাসেম আলী বলেন, সালিশে কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন, এখন তারা তা অস্বীকার করছেন, যা ঠিক নয়।
সাবেক ইউপি সদস্য বাবর আলী মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

🚓 পুলিশের বক্তব্য

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে ধর্ষণচেষ্টার ২০ হাজার টাকায় দফারফা

আপডেট সময় : ১০:৩৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক কিশোরীর ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে অভিযুক্তকে জরিমানা করে বিষয়টি মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৩ মে) গভীর রাতে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গুচ্ছগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, নির্ধারিত জরিমানার পুরো টাকাও তারা পায়নি।

⚖️ সালিশের সিদ্ধান্ত ও টাকার অভিযোগ

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সালিশ-বৈঠকে অভিযুক্তকে প্রকাশ্যে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মাতব্বররা গোপনে তার কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা আদায় করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারকে মাত্র ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, বাকিটা পরে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
এ নিয়ে এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

⚠️ ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ

কিশোরীর পরিবারের দাবি, সালিশের সিদ্ধান্ত না মানলে তাদের গ্রামছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

👧 কিশোরীর পরিচয় ও পারিবারিক অবস্থা

ভুক্তভোগী কিশোরী (১২) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা ভ্যানচালক এবং মা অসুস্থ। বাবা ও দাদির সঙ্গে সে গুচ্ছগ্রামে বসবাস করে।
অভিযুক্ত দেলোয়ার (৫৫) একই এলাকার গ্যারেজমিস্ত্রি, যাকে মেয়েটি ‘দাদা’ বলে ডাকত।

🚨 ঘটনার বর্ণনা

কিশোরীর ভাষ্যমতে, তার বাবা অভিযুক্ত দেলোয়ারের ভ্যান ভাড়ায় চালাতেন। এই সুযোগে দেলোয়ার প্রায়ই ফাঁকা ঘরে ঢুকে তাকে কুপ্রস্তাব দিতেন এবং কথা না শুনলে তার বাবার কাছ থেকে ভ্যান কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিতেন।
গত ২৫ এপ্রিল রাতে, মেয়েটি একা থাকাকালে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দেলোয়ার ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন।

🧑‍⚖️ সালিশ বৈঠকের বিবরণ

ঘটনা জানাজানি হলে রোববার রাত ৯টার দিকে সালিশ-বৈঠক বসে। এতে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাবর আলী মাতুব্বর ও গুচ্ছগ্রামের সভাপতি কাসেম আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে দেলোয়ারকে দায়ী করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে একটি স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়।

😟 এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রকাশ্যে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেখালেও গোপনে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে। এতে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

👵 পরিবারের দুশ্চিন্তা

ভুক্তভোগী কিশোরীর দাদি বলেন, এ ঘটনার পর তারা মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে তার বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে।

🗣️ অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

অভিযুক্ত দেলোয়ার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি ন্যায়বিচার চান।
অন্যদিকে, গুচ্ছগ্রামের সভাপতি কাসেম আলী বলেন, সালিশে কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন, এখন তারা তা অস্বীকার করছেন, যা ঠিক নয়।
সাবেক ইউপি সদস্য বাবর আলী মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

🚓 পুলিশের বক্তব্য

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।