ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে জামায়াত-বিএনপি মুখোমুখি: রণক্ষেত্রের মাঝেই ছাত্রলীগের চমক

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 223

পরীক্ষা শেষে হলে ফিরতেই হুট করে এসে গালে বসিয়ে দেওয়া হলো কড়া থাপ্পড়! তুচ্ছ এই চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও রণক্ষেত্রে পরিণত হলো কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। একপাশে শাখা ছাত্রদল ও বহিরাগত বিএনপি, অন্যপাশে জামায়াত-শিবির—দুই পক্ষের রামদা, ছুরি ও হাতুড়ির প্রকাশ্য মহড়ায় দিনভর থমথমে পুরো ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন মহাসড়ক। আর এমন অভূতপূর্ব সহিংসতা ও অচল পরিস্থিতির রাজনৈতিক ফায়দা তুলে রাতের আঁধারে নিজেদের ২৮ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে বসল নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ!

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই তাণ্ডবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনা সামাল দিতে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

চড় থেকে হলের ঘর ভাঙচুর, তারপর মহাসড়কে অস্ত্র হাতে মহড়া

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে। পরীক্ষা শেষ করে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে খাবার খেতে যান ইবি শাখা শিবিরের নেতা কাজী জুহায়ের। হলের করিডোরে পৌঁছালে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী আলীনুর আচমকা জুহায়েরকে চড় মারেন ও গালিগালাজ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের সঙ্গেও উদ্ধত আচরণ করে আলীনূর নিজের ২১৭ নম্বর কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়ে এই চিত্র।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই হলের ভেতর চড়াও হন শিবির নেতাকর্মীরা। আলীনূরের কক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর চালানো হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়।

এর প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৩টায় ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শাখা ছাত্রদল। বিপরীত দিকে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেয় শিবিরের নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে, যখন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বহিরাগত বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র রামদা, হাতুড়ি ও ছুরি নিয়ে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

রণক্ষেত্রের মাঝেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চমকপ্রদ কমিটি!

ক্যাম্পাস যখন রামদার ঝনঝনানি আর পুলিশের টিয়ারশেলে উত্তপ্ত, ঠিক সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শনিবার রাতে ঝটিকা প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়লী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জন্য ২৮ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হাফিজকে আহ্বায়ক এবং মো. মামুন-অর-রশিদ, আলী শ্রাবণসহ ২৭ জনকে সদস্য করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যাকফুটে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এমন উত্তপ্ত সময়ে প্রকাশ্যে কমিটি দেওয়াকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি, ভিসি ও পুলিশের কড়া বার্তা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর অফিসে উভয়পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে বসে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন।

উপাচার্য স্পষ্ট জানান—

“ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে আমরা কঠোর পদক্ষপ নিচ্ছি।”

কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে সংঘর্ষ হলেও অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

ইবিতে জামায়াত-বিএনপি মুখোমুখি: রণক্ষেত্রের মাঝেই ছাত্রলীগের চমক

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষা শেষে হলে ফিরতেই হুট করে এসে গালে বসিয়ে দেওয়া হলো কড়া থাপ্পড়! তুচ্ছ এই চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও রণক্ষেত্রে পরিণত হলো কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। একপাশে শাখা ছাত্রদল ও বহিরাগত বিএনপি, অন্যপাশে জামায়াত-শিবির—দুই পক্ষের রামদা, ছুরি ও হাতুড়ির প্রকাশ্য মহড়ায় দিনভর থমথমে পুরো ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন মহাসড়ক। আর এমন অভূতপূর্ব সহিংসতা ও অচল পরিস্থিতির রাজনৈতিক ফায়দা তুলে রাতের আঁধারে নিজেদের ২৮ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে বসল নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ!

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই তাণ্ডবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনা সামাল দিতে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

চড় থেকে হলের ঘর ভাঙচুর, তারপর মহাসড়কে অস্ত্র হাতে মহড়া

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে। পরীক্ষা শেষ করে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে খাবার খেতে যান ইবি শাখা শিবিরের নেতা কাজী জুহায়ের। হলের করিডোরে পৌঁছালে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী আলীনুর আচমকা জুহায়েরকে চড় মারেন ও গালিগালাজ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের সঙ্গেও উদ্ধত আচরণ করে আলীনূর নিজের ২১৭ নম্বর কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়ে এই চিত্র।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই হলের ভেতর চড়াও হন শিবির নেতাকর্মীরা। আলীনূরের কক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর চালানো হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়।

এর প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৩টায় ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শাখা ছাত্রদল। বিপরীত দিকে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেয় শিবিরের নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে, যখন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বহিরাগত বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র রামদা, হাতুড়ি ও ছুরি নিয়ে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

রণক্ষেত্রের মাঝেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চমকপ্রদ কমিটি!

ক্যাম্পাস যখন রামদার ঝনঝনানি আর পুলিশের টিয়ারশেলে উত্তপ্ত, ঠিক সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শনিবার রাতে ঝটিকা প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়লী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জন্য ২৮ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হাফিজকে আহ্বায়ক এবং মো. মামুন-অর-রশিদ, আলী শ্রাবণসহ ২৭ জনকে সদস্য করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যাকফুটে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এমন উত্তপ্ত সময়ে প্রকাশ্যে কমিটি দেওয়াকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি, ভিসি ও পুলিশের কড়া বার্তা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর অফিসে উভয়পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে বসে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন।

উপাচার্য স্পষ্ট জানান—

“ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে আমরা কঠোর পদক্ষপ নিচ্ছি।”

কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে সংঘর্ষ হলেও অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।