ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরের সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত রিপন ‘ওয়ান শুটার গান’ সহ গ্রেপ্তার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 373

১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড মাথার ওপর ঝুলছিল। সেই সঙ্গে একের পর এক ডাকাতি, দস্যুতা, এসিড নিক্ষেপ ও মারাত্মক বিস্ফোরক মামলার পরোয়ানা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে ফরিদপুর ছেড়ে সোজা দেশের রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকায় নাম বদলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না! স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) চৌকস যৌথ টিমের নিখুঁত জালে ধরা পড়লেন ফরিদপুরের দুর্ধর্ষ ও কুখ্যাত অপরাধী সাইফুল ইসলাম ওরফে রিপন ব্যাপারী ওরফে ‘টাকী রিপন’ (৪৫)।

শুধু গ্রেফতারই নয়, তাঁকে মুখোমুখি জেরার পর মেলে বিস্ফোরক তথ্য। তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গভীর রাতে ফরিদপুরের ঝটিকা অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি দেশীয় তৈরি পাইপগান (ওয়ান শুটার গান)।

ঢাকা থেকে গ্রেফতার, ফরিদপুরে অস্ত্র উদ্ধার: এসআরবির ধুন্ধুমার যৌথ অভিযান

এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড় চারটা নাগাদ এসআরবি-১০ (সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্প) এবং এসআরবি-৪ (ঢাকা) যৌথভাবে ডিএমপির পল্লবী থানাধীন একটি আবাসিক ভবনে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় বছরের পর বছর পলাতক থাকা এই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে।

পল্লবীতে গ্রেফতারের পর রিপনকে নিয়ে যাওয়া হয় কড়া নিরাপত্তায় ফরিদপুরে। সেখানে দফায় দফায় জেরার মুখে তিনি স্বীকার করেন নিজের গোপন অস্ত্রের আস্তানার কথা।

এরপর ২০ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে চারটার দিকে এসআরবির যৌথ দল ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ঈশান গোপালপুর এলাকায় দুর্ধর্ষ অভিযান পরিচালনা করে। রিপনের দেখানো গোপন আস্তানা থেকে দুটি দেশীয় তৈরি বিপজ্জনক ‘ওয়ান শুটার গান’ বাজেয়াপ্ত করা হয়।

একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধ: রিপনের ভয়ঙ্কর আমলনামা

এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম ওরফে টাকী রিপন ফরিদপুরের এক আলোচিত ডাকাতি মামলায় আদালত কর্তৃক ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সাজা এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

তবে স্রেফ ডাকাতিতেই সীমাবদ্ধ নয় তাঁর অপরাধের ইতিহাস। এসআরবির দেওয়া তথ্যমতে, রিপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায়—

১টি অবৈধ অস্ত্র মামলা,

২ টি দুর্ধর্ষ দস্যুতা মামলা,

১ টি চুরি মামলা,

১ টি এসিড অপরাধ দমন আইনের মারাত্মক মামলা এবং

১ টি বিস্ফোরক আইনের মামলা রয়েছে।

অভিযান শেষে গ্রেফতারকৃত রিপন ও উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এসআরবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে—অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চরমপন্থী সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন এবং পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে এসআরবির এই অলআউট অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরের সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত রিপন ‘ওয়ান শুটার গান’ সহ গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড মাথার ওপর ঝুলছিল। সেই সঙ্গে একের পর এক ডাকাতি, দস্যুতা, এসিড নিক্ষেপ ও মারাত্মক বিস্ফোরক মামলার পরোয়ানা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে ফরিদপুর ছেড়ে সোজা দেশের রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকায় নাম বদলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না! স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) চৌকস যৌথ টিমের নিখুঁত জালে ধরা পড়লেন ফরিদপুরের দুর্ধর্ষ ও কুখ্যাত অপরাধী সাইফুল ইসলাম ওরফে রিপন ব্যাপারী ওরফে ‘টাকী রিপন’ (৪৫)।

শুধু গ্রেফতারই নয়, তাঁকে মুখোমুখি জেরার পর মেলে বিস্ফোরক তথ্য। তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গভীর রাতে ফরিদপুরের ঝটিকা অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি দেশীয় তৈরি পাইপগান (ওয়ান শুটার গান)।

ঢাকা থেকে গ্রেফতার, ফরিদপুরে অস্ত্র উদ্ধার: এসআরবির ধুন্ধুমার যৌথ অভিযান

এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড় চারটা নাগাদ এসআরবি-১০ (সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্প) এবং এসআরবি-৪ (ঢাকা) যৌথভাবে ডিএমপির পল্লবী থানাধীন একটি আবাসিক ভবনে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় বছরের পর বছর পলাতক থাকা এই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে।

পল্লবীতে গ্রেফতারের পর রিপনকে নিয়ে যাওয়া হয় কড়া নিরাপত্তায় ফরিদপুরে। সেখানে দফায় দফায় জেরার মুখে তিনি স্বীকার করেন নিজের গোপন অস্ত্রের আস্তানার কথা।

এরপর ২০ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে চারটার দিকে এসআরবির যৌথ দল ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ঈশান গোপালপুর এলাকায় দুর্ধর্ষ অভিযান পরিচালনা করে। রিপনের দেখানো গোপন আস্তানা থেকে দুটি দেশীয় তৈরি বিপজ্জনক ‘ওয়ান শুটার গান’ বাজেয়াপ্ত করা হয়।

একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধ: রিপনের ভয়ঙ্কর আমলনামা

এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম ওরফে টাকী রিপন ফরিদপুরের এক আলোচিত ডাকাতি মামলায় আদালত কর্তৃক ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সাজা এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

তবে স্রেফ ডাকাতিতেই সীমাবদ্ধ নয় তাঁর অপরাধের ইতিহাস। এসআরবির দেওয়া তথ্যমতে, রিপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায়—

১টি অবৈধ অস্ত্র মামলা,

২ টি দুর্ধর্ষ দস্যুতা মামলা,

১ টি চুরি মামলা,

১ টি এসিড অপরাধ দমন আইনের মারাত্মক মামলা এবং

১ টি বিস্ফোরক আইনের মামলা রয়েছে।

অভিযান শেষে গ্রেফতারকৃত রিপন ও উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এসআরবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে—অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চরমপন্থী সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন এবং পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে এসআরবির এই অলআউট অভিযান অব্যাহত থাকবে।