ফরিদপুরে মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, ১০ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৯:০৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 116
বাড়ির আঙিনায় সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল নিষ্পাপ এক অবুঝ শিশু। কিন্তু সেই চপল শৈশবের ওপর যে লোলুপ নজর পড়েছিল প্রতিবেশীর, তা টের পায়নি কেউ-ই। সুকৌশলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘরের অন্ধকার কোণে। অবশেষে তিন বছর আগের সেই পৈশাচিক চেষ্টার বিচার হলো আদালতের কাঠগড়ায়। ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অপরাধে লম্পট মিরাজ শেখকে (৩৫) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন জনাকীর্ণ এজলাসে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মিরাজ শেখ কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
খেলার সুযোগে পৈশাচিক ফাঁদ, দীর্ঘ বিচার শেষে সাজা
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ২০২৩ সালের ২৮ আগস্টের। সেদিন দুপুর ১২টার দিকে আসামি মিরাজ শেখের বাড়ির সামনেই অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল ভুক্তভোগী ওই কচি মাদরাসা ছাত্রী। এলাকার দুর্ধর্ষ ও লম্পট প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত মিরাজ শেখ সুযোগ বুঝে মিষ্টি কথার ছলে শিশুটিকে নিজ ঘরের ভেতরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপরই তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় সে। শিশুটির ডাকচিল্কারে স্বজনেরা ও স্থানীয়রা ছুটে এলে চম্পট দেয় অপরাধী।
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো এলাকা। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগরকান্দা থানার এসআই মনিরুজ্জামান পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে লম্পট মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করেন।
আদালতের এই কঠোর রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন—
“আসামি মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ ও নির্মমতার প্রমাণ আদালতকে আমরা জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ বিচারক যে সাজা দিয়েছেন, তাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট।”











