ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সন্তানকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যাচেষ্টায় আটক মা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 295

মাতৃত্বের পরম মমতাকে এক লহমায় ধূলিসাৎ করে দেওয়ার মতো এক নৃশংস ও শিউরে ওঠা ঘটনা ঘটে গেল পদ্মাপাড়ের ফরিদপুরে! প্রবাসে থাকা স্বামীর অবহেলা আর দীর্ঘ অনুপস্থিতির ক্ষোভ মেটাতে নিজের অবুঝ, নিষ্পাপ সন্তানকেই চরম বলির পাঁঠা বানালেন জন্মদাত্রী মা। সন্তানকে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তটি আবার নিজের মুঠোফোনে ধারণও করছিলেন তিনি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র নজর এড়িয়ে রক্ষা পাননি অভিযুক্ত নারী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রাম থেকে অভিযুক্ত মা বিথী আক্তারকে (২৮) আটক করেছে নগরকান্দা থানা পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর দুই শিশু সন্তান—আবীর (৯) ও তাবিরকেও (৭) নিজেদের নিরাপদ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

ফেসবুকে শিউরে ওঠা ভিডিও ভাইরাল, ফুফুর ফোনে অ্যাকশনে পুলিশ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্পর্শকাতর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়)। যেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, এক নারী অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে নিজ সন্তানকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই জেলা জুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সংবেদনশীল এই অপরাধের ভয়াবহতা অনুধাবন করে নগরকান্দা থানা পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম তৎক্ষণাৎ অপরাধীর পরিচয় অনুসন্ধানে মাঠে নেমে পড়ে।

তদন্ত চলাকালীনই পুলিশের অনুসন্ধান কাজকে তরান্বিত করেন ভুক্তভোগী শিশুটির ফুফু। তিনি সরাসরি ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান এবং ঘটনাস্থলের ঠিকানা নিশ্চিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই ওসি রাসুল সামদানী আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাধানগর গ্রামে হানা দিয়ে অভিযুক্ত বিথী আক্তারকে আটক করে এবং দুই অবুঝ শিশুকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।

৭ বছর দেশে ফেরেন না স্বামী, ব্ল্যাকমেইল করতে সন্তানের জীবনকে বাজি!

আটক নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ নিশ্চিত করেছেন যে, বিথীর স্বামী আব্বাস আলী দীর্ঘ ৭ বছর ধরে মালদ্বীপে অবস্থান করছেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দেশে ফেরেননি।

ওসি রাসুল সামদানী আজাদ জানান—

“অভিযুক্ত মা বিথী আক্তার জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘ ৭ বছর স্বামী দেশে না আসায় ও যোগাযোগে অবহেলা করায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। প্রবাসী স্বামীর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেই নিজ সন্তানকে গলায় ফাঁস দেওয়ার রুদ্ধশ্বাস ভিডিও ধারণ করে স্বামীকে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে পুলিশের গভীর অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ ধাপের দিকে।”

ফরিদপুরে সন্তানকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যাচেষ্টায় আটক মা

আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাতৃত্বের পরম মমতাকে এক লহমায় ধূলিসাৎ করে দেওয়ার মতো এক নৃশংস ও শিউরে ওঠা ঘটনা ঘটে গেল পদ্মাপাড়ের ফরিদপুরে! প্রবাসে থাকা স্বামীর অবহেলা আর দীর্ঘ অনুপস্থিতির ক্ষোভ মেটাতে নিজের অবুঝ, নিষ্পাপ সন্তানকেই চরম বলির পাঁঠা বানালেন জন্মদাত্রী মা। সন্তানকে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তটি আবার নিজের মুঠোফোনে ধারণও করছিলেন তিনি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র নজর এড়িয়ে রক্ষা পাননি অভিযুক্ত নারী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রাম থেকে অভিযুক্ত মা বিথী আক্তারকে (২৮) আটক করেছে নগরকান্দা থানা পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর দুই শিশু সন্তান—আবীর (৯) ও তাবিরকেও (৭) নিজেদের নিরাপদ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

ফেসবুকে শিউরে ওঠা ভিডিও ভাইরাল, ফুফুর ফোনে অ্যাকশনে পুলিশ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্পর্শকাতর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়)। যেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, এক নারী অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে নিজ সন্তানকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই জেলা জুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সংবেদনশীল এই অপরাধের ভয়াবহতা অনুধাবন করে নগরকান্দা থানা পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম তৎক্ষণাৎ অপরাধীর পরিচয় অনুসন্ধানে মাঠে নেমে পড়ে।

তদন্ত চলাকালীনই পুলিশের অনুসন্ধান কাজকে তরান্বিত করেন ভুক্তভোগী শিশুটির ফুফু। তিনি সরাসরি ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান এবং ঘটনাস্থলের ঠিকানা নিশ্চিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই ওসি রাসুল সামদানী আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাধানগর গ্রামে হানা দিয়ে অভিযুক্ত বিথী আক্তারকে আটক করে এবং দুই অবুঝ শিশুকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।

৭ বছর দেশে ফেরেন না স্বামী, ব্ল্যাকমেইল করতে সন্তানের জীবনকে বাজি!

আটক নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ নিশ্চিত করেছেন যে, বিথীর স্বামী আব্বাস আলী দীর্ঘ ৭ বছর ধরে মালদ্বীপে অবস্থান করছেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দেশে ফেরেননি।

ওসি রাসুল সামদানী আজাদ জানান—

“অভিযুক্ত মা বিথী আক্তার জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘ ৭ বছর স্বামী দেশে না আসায় ও যোগাযোগে অবহেলা করায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। প্রবাসী স্বামীর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেই নিজ সন্তানকে গলায় ফাঁস দেওয়ার রুদ্ধশ্বাস ভিডিও ধারণ করে স্বামীকে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে পুলিশের গভীর অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ ধাপের দিকে।”