ফরিদপুরে দুই ইউনিয়নের সংঘাত: দোকান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, আহত ১২
- আপডেট সময় : ১২:১৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 138
বখাটেদের ইভটিজিংয়ের দৌরাত্ম্য ও সামাজিক ব্যাধি কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, তার আরও এক নগ্ন চিত্র দেখল ফরিদপুরের সালথা। মাদরাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে তিন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রামকান্তপুর ও আটঘর ইউনিয়নের সীমান্তে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিভাগদী ব্রিজের ওপর ঘটে এই তাণ্ডবলীলা।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রুদ্ধশ্বাস সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এ সময় তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে দুটি দোকান এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি বিশাল খড়ের গাদায়।
ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ থেকে রণক্ষেত্র
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে মাদরাসা থেকে ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল আটঘর ইউনিয়নের বিভাগদী গ্রামের তিন শিক্ষার্থী। পথিমধ্যে বিভাগদী ব্রিজের ওপর রামকান্তপুর এলাকার কয়েকজন বখাটে যুবক তাদের গতিপথ রোধ করে এবং বিভিন্ন অশালীন কটূক্তি ও উত্ত্যক্ত করে।
ইভটিজিংয়ের এই ঘটনা দ্রুত জানাজানি হলে বিভাগদী গ্রামের কয়েকজন স্থানীয় যুবক ঘটনাস্থলে গিয়ে বখাটেদের ওপর চড়াও হন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই খবর রামকান্তপুর ও আটঘর—দুই ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর পরেই দুই পক্ষের লোকজন রামদা, ঢাল, সরকি ও ঢ্যাঙ্গার মতো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিভাগদী ব্রিজের ওপর মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং আতঙ্কে স্থানীয় বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। তাণ্ডবের এক পর্যায়ে দুটি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং জনমনে সন্ত্রাস ছড়াতে একটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা
এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন রক্তাক্ত ও আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহত কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আর বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সালথা থানা পুলিশের একটি বিশাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ব্রিজের আশেপাশের পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”











