বিশ মামলার লেডি ডন: ফরিদপুরে দেড় কেজি গাঁজাসহ শিল্পী বেগম গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১০:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 213
আইনশৃঙ্খলার চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ফরিদপুর শহর এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে আসা কুখ্যাত নারী কারবারি শিল্পী বেগমকে (৩৫) দেড় কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। পুলিশি রেকর্ড (পিসিআর) যাচাই করে দেখা গেছে, এই গ্রেপ্তারের আগে তাঁর বিরুদ্ধে কেবল কোতোয়ালি থানাতেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এক-দুই নয়, অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে!
শিল্পী বেগম ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী গুহলক্ষ্মীপুর এলাকার নূর ইসলামের স্ত্রী।
কাপড়ের ব্যাগে লুকানো দেড় কেজি গাঁজা উদ্ধার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় গুহলক্ষ্মীপুর এলাকায় শিল্পী বেগমের বসতঘরে এক ঝটিকা ও বিশেষ অভিযান চালায় কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। এ সময় ঘর তল্লাশি করার একপর্যায়ে একটি কাপড়ের ব্যাগের ভেতর স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে রাখা দুটি বিশেষ প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেট খুলে সেখান থেকে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম (দেড় কেজি) তাজা গাঁজা জব্দ করেন অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যরা।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান শিকদার বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শিল্পী বেগমকে একমাত্র আসামি করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি-র বক্তব্য ও রেকর্ড ২১ মামলা
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দেড় কেজি বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ আসামি শিল্পী বেগমকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর অপরাধের রেকর্ড (পিসিআর) যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, এর পূর্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কেবল আমাদের কোতোয়ালি থানাতেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত ২০টি সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। নতুন মামলাটি রুজু করার পর আজ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
ঘটনার ব্যবচ্ছেদ
ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুরে ২০টি মামলার আসামির আবার দেড় কেজি গাঁজাসহ ধরা পড়ার ঘটনা স্থানীয় সামাজিক ও বিচার ব্যবস্থার এক জটিল সমীকরণ তুলে ধরে।
প্রথমত, একজন আসামির বিরুদ্ধে ২০টি সুনির্দিষ্ট মাদক মামলা থাকার পরও জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই ব্যবসা শুরু করাটা শহরের স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য চরম হুমকি। এতে করে অপরাধিদের মনে আইনের ভয় কমে যায় এবং সমাজে যুবসমাজ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।
দ্বিতীয়ত, কোতোয়ালি থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক ঝটিকা অভিযানকে প্রশংসার সাথে দেখতে হবে। তবে শুধু গ্রেপ্তারেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই ধরণের অভ্যাসগত মাদক কারবারিদের জামিন বাতিল ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।











