ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কালকের দিন সময় দিলাম, না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে’

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:১২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 394

‘মামলার বাদী আপনি, আপনার মামলার বাদী কে হবে?’ হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপককে ফোনে হত্যার হুমকি
“মামলার বাদী যে হলেন, আপনার নিজের মামলার বাদী কে হবেন?”—মুঠোফোনের ওপার থেকে ভেসে এলো এক কর্কশ ও হিংস্র কণ্ঠস্বর। একের পর এক নোংরা গালাগাল, আর তার পরেই চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি—”আজ শনিবারের মধ্যে সমঝোতা না করলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে!” রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে তাণ্ডব, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর এবার মামলার বাদীকে সরাসরি গুলি করে হত্যার হুমকিতে থমথমে পুরো এলাকা!

রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদামে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও প্রকাশ্যে লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী আফসার উদ্দিনকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। মামলা তুলে নিয়ে অবিলম্বে সমঝোতা না করলে ‘লাশ ফেলে দেওয়া হবে’ বলে শাসিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১১টার দিকে কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক তথা মামলার বাদী আফসার উদ্দিনের কাছে এই হুমকির ফোন আসে। ঘটনার পর থেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

হুমকির পর থেকেই ম্যানেজার আফসারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, হুমকিদাতার ফোনালাপের একটি কল রেকর্ড বা অডিও ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

‘তোর বাপের সাথে কথা বল, না হলে লাশ পড়বে!’

ফাঁস হওয়া হুমকিদাতার সেই কথোপকথনের অডিওতে শোনা যায়, ফোন করেই সালাম দিয়ে আফসারকে বলা হয়, “ভাই মামলার বাদী যে হলেন আপনার নিজের মামলার বাদী কে হবেন?”

আফসার বিস্ময় প্রকাশ করে পরিচয় ও প্রসঙ্গ জানতে চাইলে শুরু হয় অকথ্য ভাষায় গালাগাল। হুমকিদাতা সাফ জানিয়ে দেয়, “কালকের (শনিবার) মধ্যে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করা না হলে লাশ পড়ে থাকবে।”

আফসার নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন যে তিনি শুধুই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী, মূল মালিক নন। অমনি ওপাশ থেকে গর্জে ওঠে হুমকিদাতা—”মালিক না তো বাদী হইছোস কেমনে? কালকের দিন সময় দিলাম, তোর বাপের সাথে কথা বলে ঝামেলা শেষ করতে বল। না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে।”

শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নামে তাণ্ডব, অধরা মূল আসামি সাইফুল-জুয়েল

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। “এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে হবে”—এমন হুমকি দিয়ে হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে তাণ্ডব চালায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। পুরো গুদাম ভাঙচুর করে কয়েক লাখ টাকার মালামাল ও প্রমাণের সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায় তারা।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, তারা দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেন। কিন্তু সম্প্রতি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে সাইফুল ও জুয়েল নামের দুই অপরাধীর নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়।

মামলায় এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হামলার মূল কারিগর সাইফুল ও জুয়েল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

অডিও যাচাই করছে পুলিশ

হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি বাদীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হুমকিদাতার সেই বিস্ফোরক অডিও ক্লিপটি সংগ্রহ করেছেন।

ওসি বলেন, “অডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। কাকে ফোন থেকে কল করা হয়েছিল এবং কে এই হুমকি দিয়েছে, তা শনাক্ত করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। এই হুমকির বিষয়টিও মূল মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।”

‘কালকের দিন সময় দিলাম, না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে’

আপডেট সময় : ০১:১২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

‘মামলার বাদী আপনি, আপনার মামলার বাদী কে হবে?’ হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপককে ফোনে হত্যার হুমকি
“মামলার বাদী যে হলেন, আপনার নিজের মামলার বাদী কে হবেন?”—মুঠোফোনের ওপার থেকে ভেসে এলো এক কর্কশ ও হিংস্র কণ্ঠস্বর। একের পর এক নোংরা গালাগাল, আর তার পরেই চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি—”আজ শনিবারের মধ্যে সমঝোতা না করলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে!” রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে তাণ্ডব, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর এবার মামলার বাদীকে সরাসরি গুলি করে হত্যার হুমকিতে থমথমে পুরো এলাকা!

রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদামে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও প্রকাশ্যে লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী আফসার উদ্দিনকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। মামলা তুলে নিয়ে অবিলম্বে সমঝোতা না করলে ‘লাশ ফেলে দেওয়া হবে’ বলে শাসিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১১টার দিকে কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক তথা মামলার বাদী আফসার উদ্দিনের কাছে এই হুমকির ফোন আসে। ঘটনার পর থেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

হুমকির পর থেকেই ম্যানেজার আফসারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, হুমকিদাতার ফোনালাপের একটি কল রেকর্ড বা অডিও ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

‘তোর বাপের সাথে কথা বল, না হলে লাশ পড়বে!’

ফাঁস হওয়া হুমকিদাতার সেই কথোপকথনের অডিওতে শোনা যায়, ফোন করেই সালাম দিয়ে আফসারকে বলা হয়, “ভাই মামলার বাদী যে হলেন আপনার নিজের মামলার বাদী কে হবেন?”

আফসার বিস্ময় প্রকাশ করে পরিচয় ও প্রসঙ্গ জানতে চাইলে শুরু হয় অকথ্য ভাষায় গালাগাল। হুমকিদাতা সাফ জানিয়ে দেয়, “কালকের (শনিবার) মধ্যে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করা না হলে লাশ পড়ে থাকবে।”

আফসার নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন যে তিনি শুধুই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী, মূল মালিক নন। অমনি ওপাশ থেকে গর্জে ওঠে হুমকিদাতা—”মালিক না তো বাদী হইছোস কেমনে? কালকের দিন সময় দিলাম, তোর বাপের সাথে কথা বলে ঝামেলা শেষ করতে বল। না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে।”

শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নামে তাণ্ডব, অধরা মূল আসামি সাইফুল-জুয়েল

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। “এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে হবে”—এমন হুমকি দিয়ে হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে তাণ্ডব চালায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। পুরো গুদাম ভাঙচুর করে কয়েক লাখ টাকার মালামাল ও প্রমাণের সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায় তারা।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, তারা দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেন। কিন্তু সম্প্রতি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে সাইফুল ও জুয়েল নামের দুই অপরাধীর নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়।

মামলায় এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হামলার মূল কারিগর সাইফুল ও জুয়েল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

অডিও যাচাই করছে পুলিশ

হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি বাদীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হুমকিদাতার সেই বিস্ফোরক অডিও ক্লিপটি সংগ্রহ করেছেন।

ওসি বলেন, “অডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। কাকে ফোন থেকে কল করা হয়েছিল এবং কে এই হুমকি দিয়েছে, তা শনাক্ত করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। এই হুমকির বিষয়টিও মূল মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।”