ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের ভিডিও ফাঁস, চাকরি হারালেন শিক্ষক

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 183

গুরু-শিষ্যের পবিত্র সম্পর্কে বিষাক্ত থাবা! যে শিক্ষককে বলা হয় জাতির কারিগর, তাঁর বিরুদ্ধেই উঠল ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ভয়ঙ্কর অভিযোগ। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভের দাবানল জ্বলে উঠল শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিক্ষোভের মুখে অবশেষে বিতর্কিত সেই শিক্ষককে চূড়ান্ত বরখাস্ত করতে বাধ্য হলো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে নজরুল ইসলাম নামের এক খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি স্পর্শকাতর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

তদন্তে সত্যতা প্রমাণ ও বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ অক্টোবর। ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষক নজরুল ইসলামের অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটি নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় এবং গত ২৯ অক্টোবর লিখিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপরই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও কর্তৃপক্ষ নজরুল ইসলামকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভ ও অভিভাবক মহলে তোলপাড়

এদিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার মধ্যেই রোববার সকালে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ঐতিহ্যবাহী ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম অসন্তোষ ছড়ায়।

অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মহলের মতে, ভাঙ্গা উপজেলার এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলে শিক্ষার পরিবেশ ও মেধার বিকাশ বজায় রেখেছে। কিন্তু একজন শিক্ষকের এমন নৈতিক স্খলনমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামে বড় ধাক্কা লেগেছে। তারা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেবল বরখাস্তই নয়, দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির জোর দাবি জানান।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের বারবার চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রধান শিক্ষক ও ইউএনওর প্রতিক্রিয়া

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন জানান, “নজরুল ইসলাম আমাদের বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সত্যতা মেলায় তাঁকে প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে।”

প্রধান শিক্ষক আরও স্পষ্ট করেন, “ঘটনাটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটেনি, এটি ওই শিক্ষকের নিজস্ব প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে ঘটেছে। তা সত্ত্বেও একজন শিক্ষকের নৈতিকতার এই চরম স্খলন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, তাই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফরিদপুরে ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের ভিডিও ফাঁস, চাকরি হারালেন শিক্ষক

আপডেট সময় : ০৫:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

গুরু-শিষ্যের পবিত্র সম্পর্কে বিষাক্ত থাবা! যে শিক্ষককে বলা হয় জাতির কারিগর, তাঁর বিরুদ্ধেই উঠল ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ভয়ঙ্কর অভিযোগ। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভের দাবানল জ্বলে উঠল শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিক্ষোভের মুখে অবশেষে বিতর্কিত সেই শিক্ষককে চূড়ান্ত বরখাস্ত করতে বাধ্য হলো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে নজরুল ইসলাম নামের এক খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি স্পর্শকাতর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

তদন্তে সত্যতা প্রমাণ ও বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ অক্টোবর। ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষক নজরুল ইসলামের অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটি নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় এবং গত ২৯ অক্টোবর লিখিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপরই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও কর্তৃপক্ষ নজরুল ইসলামকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভ ও অভিভাবক মহলে তোলপাড়

এদিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার মধ্যেই রোববার সকালে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ঐতিহ্যবাহী ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম অসন্তোষ ছড়ায়।

অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মহলের মতে, ভাঙ্গা উপজেলার এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলে শিক্ষার পরিবেশ ও মেধার বিকাশ বজায় রেখেছে। কিন্তু একজন শিক্ষকের এমন নৈতিক স্খলনমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামে বড় ধাক্কা লেগেছে। তারা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেবল বরখাস্তই নয়, দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির জোর দাবি জানান।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের বারবার চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রধান শিক্ষক ও ইউএনওর প্রতিক্রিয়া

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন জানান, “নজরুল ইসলাম আমাদের বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সত্যতা মেলায় তাঁকে প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে।”

প্রধান শিক্ষক আরও স্পষ্ট করেন, “ঘটনাটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটেনি, এটি ওই শিক্ষকের নিজস্ব প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে ঘটেছে। তা সত্ত্বেও একজন শিক্ষকের নৈতিকতার এই চরম স্খলন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, তাই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।