ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতার চাবিকাঠি ফিলিস্তিনিদের হাতে, তাও নিতে নারাজ ইসরায়েল

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 39

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভেস্তে গেছে সব রাজনৈতিক সমীকরণ! সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ মূলধারার ইহুদি জোটগুলো। অথচ পার্লামেন্টের ক্ষমতার চাবিকাঠি বা ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠেছেন দেশটির আরব-ফিলিস্তিনি নাগরিকরা। কিন্তু চরম বর্ণবাদী মানসিকতা ও বৈষম্যমূলক রাজনীতির জের ধরে ফিলিস্তিনিদের সেই প্রত্যক্ষ সমর্থন প্রকাশ্যে ও সশব্দে প্রত্যাখ্যান করছে প্রধান ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী ইহুদি ব্লকগুলো।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে কোনো দল বা একক জোটের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় ও অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে, নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আসন কোনো দলই এককভাবে বা জোটবদ্ধ হয়ে অর্জন করতে পারেনি।

এমতাবস্থায় দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব নাগরিক এবং তাঁদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক বা ‘কিংমেকার’ ভূমিকায় চলে এসেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’র তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের মূলধারার প্রধান প্রধান ইহুদি রাজনৈতিক ব্লকগুলো ফিলিস্তিনি বা আরব দলগুলোর কোনো প্রকার রাজনৈতিক সহযোগিতা বা সমর্থন নিতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

উপেক্ষিত আরব ম্যান্ডেট ও বর্ণবাদের অভিযোগ

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে অস্বীকার ও পাশ কাটিয়ে চলার এই প্রবণতা দেশটির কাঠামোগত বর্ণবাদকেই উন্মোচিত করে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ক্ষমতা দখলের লড়াই যতই কঠিন হোক না কেন, ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলো কোনোভাবেই আরব ভোটারদের জনসংখ্যার অধিকার ও গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত নয়।

পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর পার্লামেন্টারি সমর্থন নিলে খুব সহজেই সরকার গঠন সম্ভব। কিন্তু উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ডানপন্থী দলগুলো এই রাজনৈতিক অংশীদারিত্বকে সরাসরি ‘বয়কট’ করার ডাক দিয়েছে।

ইসরায়েলি গণতন্ত্রের আড়ালে স্থায়ী বৈষম্য

বিশ্লেষকদের অভিমত, ইসরায়েলি রাজনীতির ডানপন্থী ও কথিত মধ্যপন্থী উভয় ধারাই সবসময় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রান্তিক এবং ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ নাগরিক হিসেবে গণ্য করে আসছে। নির্বাচন এলেই আরব ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসা নিয়ে নিরাপত্তা আতঙ্ক ছড়ানো হয় কিংবা তাঁদের সংগৃহীত আসনগুলোকে ‘অবৈধ বা অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলে।

বর্তমান নজিরবিহীন রাজনৈতিক অচলাবস্থাতেও ফিলিস্তিনিদের রক্তে গড়া গণতান্ত্রিক ভোটাধিকারকে অবমূল্যায়ন করা আবার প্রমাণ করল—ইসরায়েলের কথিত ‘মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্রে’ আরবদের কণ্ঠস্বরকে ধামাচাপা দেওয়াই সেখানকার রাষ্ট্রযন্ত্রের স্থায়ী রূপ।

ক্ষমতার চাবিকাঠি ফিলিস্তিনিদের হাতে, তাও নিতে নারাজ ইসরায়েল

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভেস্তে গেছে সব রাজনৈতিক সমীকরণ! সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ মূলধারার ইহুদি জোটগুলো। অথচ পার্লামেন্টের ক্ষমতার চাবিকাঠি বা ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠেছেন দেশটির আরব-ফিলিস্তিনি নাগরিকরা। কিন্তু চরম বর্ণবাদী মানসিকতা ও বৈষম্যমূলক রাজনীতির জের ধরে ফিলিস্তিনিদের সেই প্রত্যক্ষ সমর্থন প্রকাশ্যে ও সশব্দে প্রত্যাখ্যান করছে প্রধান ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী ইহুদি ব্লকগুলো।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে কোনো দল বা একক জোটের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় ও অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে, নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আসন কোনো দলই এককভাবে বা জোটবদ্ধ হয়ে অর্জন করতে পারেনি।

এমতাবস্থায় দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব নাগরিক এবং তাঁদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক বা ‘কিংমেকার’ ভূমিকায় চলে এসেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’র তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের মূলধারার প্রধান প্রধান ইহুদি রাজনৈতিক ব্লকগুলো ফিলিস্তিনি বা আরব দলগুলোর কোনো প্রকার রাজনৈতিক সহযোগিতা বা সমর্থন নিতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

উপেক্ষিত আরব ম্যান্ডেট ও বর্ণবাদের অভিযোগ

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে অস্বীকার ও পাশ কাটিয়ে চলার এই প্রবণতা দেশটির কাঠামোগত বর্ণবাদকেই উন্মোচিত করে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ক্ষমতা দখলের লড়াই যতই কঠিন হোক না কেন, ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলো কোনোভাবেই আরব ভোটারদের জনসংখ্যার অধিকার ও গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত নয়।

পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর পার্লামেন্টারি সমর্থন নিলে খুব সহজেই সরকার গঠন সম্ভব। কিন্তু উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ডানপন্থী দলগুলো এই রাজনৈতিক অংশীদারিত্বকে সরাসরি ‘বয়কট’ করার ডাক দিয়েছে।

ইসরায়েলি গণতন্ত্রের আড়ালে স্থায়ী বৈষম্য

বিশ্লেষকদের অভিমত, ইসরায়েলি রাজনীতির ডানপন্থী ও কথিত মধ্যপন্থী উভয় ধারাই সবসময় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রান্তিক এবং ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ নাগরিক হিসেবে গণ্য করে আসছে। নির্বাচন এলেই আরব ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসা নিয়ে নিরাপত্তা আতঙ্ক ছড়ানো হয় কিংবা তাঁদের সংগৃহীত আসনগুলোকে ‘অবৈধ বা অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলে।

বর্তমান নজিরবিহীন রাজনৈতিক অচলাবস্থাতেও ফিলিস্তিনিদের রক্তে গড়া গণতান্ত্রিক ভোটাধিকারকে অবমূল্যায়ন করা আবার প্রমাণ করল—ইসরায়েলের কথিত ‘মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্রে’ আরবদের কণ্ঠস্বরকে ধামাচাপা দেওয়াই সেখানকার রাষ্ট্রযন্ত্রের স্থায়ী রূপ।