বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে লালসার চেষ্টা: ফরিদপুরে ইসমাইল মোল্লার কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / 51
সমাজের অবুঝ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ওপর লালসার থাবা বসানো কতটা জঘন্যতম অপরাধ, ফের তা প্রমাণ করল আদালত। ফরিদপুরের নগরকান্দায় ১৩ বছর বয়সী এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কন্যাশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে ইসমাইল মোল্লা (৫৬) নামের এক লম্পটকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আইন ও বিচারের বিচারে এ রায় এক দৃষ্টান্তমূলক অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল মামলায় অভিযুক্ত ইসমাইল মোল্লাকে (৫৬) পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইসমাইল মোল্লা বিচারকের মুখোমুখি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে কড়া পুলিশি পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পুকুরপাড় থেকে দোকানঘরে তুলে নেওয়ার সেই ভয়ংকর চিত্র
মামলার এজাহার ও আইনি নথিসূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে। নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের একটি গ্রামে মুদি দোকানের পাশের পুকুর থেকে পানীয় জল নিয়ে বাড়ি ফিরছিল ওই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটি। বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সুযোগ বুঝে ইসমাইল মোল্লা তাকে ফুসলিয়ে নিজের দোকানঘরে টেনে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
বাড়িতে ফিরে নিষ্পাপ শিশুটি তার বাবা-মাকে এই নির্মম ঘটনার কথা কোনোমতে অবহিত করে। বিষয়টি জানার পর শিশুটির বাবা ক্ষোভে ও বিচারের আশায় ওই বছরেরই ২১ ডিসেম্বর নগরকান্দা থানায় ইসমাইল মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া
ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য গ্রহণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যবেক্ষণ শেষে এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌশূলী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা সমাজের অত্যন্ত স্পর্শকাতর অংশ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের সবার মানবিক ও আইনি দায়িত্ব। আদালতের এই রায়ে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট, যা সমাজে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পাঠাবে।”










