ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘোষণা হয়নি রোডম্যাপ,ভোটাধিকার ছিনিয়ে আনতে ,মাঠে নামছে বিএনপির তিন সংগঠন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 220

স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকলে পড়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। লাখ লাখ তরুণ-যুবক অপেক্ষায় রয়েছে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলেরও দাবি প্রায় অভিন্ন— দ্রুত নির্বাচন দিয়ে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি, ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

তারুণ্যের সমাবেশের প্রস্তুতি

দ্রুত নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণাসহ বিভিন্ন দাবিতে মাঠে নামছে বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন— জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ আয়োজন করবে এই তিন সংগঠনের নেতারা। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে। ৭ মে চট্টগ্রাম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সমাবেশের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

এই সমাবেশের মাধ্যমে দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য উজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হবে। একইসঙ্গে দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে জনমত গঠনের বার্তাও দেওয়া হবে। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা জানান, তরুণ-যুব সমাজের সমর্থন অর্জন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচি নির্ধারণের বৈঠক

রোববার দিনভর দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছেন। আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

পূর্ব অভিজ্ঞতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

এর আগে, ২০২৩ সালের জুন মাসে সারা দেশের বিভাগীয় শহরে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ করেছিল যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। তখন ‘তরুণ প্রজন্ম দেব ভোট, ভোটের জন্য যুদ্ধ হোক’— এই স্লোগান ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল তরুণদের মাঝে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট অনেক ভিন্ন। ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও জনগণ এখনো ভোটাধিকার ফিরে পায়নি। বিগত ১৬ বছর তরুণ সমাজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

তিন সংগঠনের নেতারা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আট মাস অতিক্রান্ত হলেও এখনো নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়নি। সরকার একেক সময় একেক কথা বলছে, নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যেই ন্যূনতম সংস্কার শেষে নির্বাচন দাবি করলেও, সরকারের বক্তব্যে নেতারা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। এই অবস্থায় কৌশলে সরকারকে চাপ দিতে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূলত এই সমাবেশের মাধ্যমে তিন সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি তরুণ ও যুবসমাজকে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আহ্বান জানানো হবে।

ট্যাগস :

ঘোষণা হয়নি রোডম্যাপ,ভোটাধিকার ছিনিয়ে আনতে ,মাঠে নামছে বিএনপির তিন সংগঠন

আপডেট সময় : ১২:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকলে পড়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। লাখ লাখ তরুণ-যুবক অপেক্ষায় রয়েছে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলেরও দাবি প্রায় অভিন্ন— দ্রুত নির্বাচন দিয়ে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি, ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

তারুণ্যের সমাবেশের প্রস্তুতি

দ্রুত নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণাসহ বিভিন্ন দাবিতে মাঠে নামছে বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন— জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ আয়োজন করবে এই তিন সংগঠনের নেতারা। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে। ৭ মে চট্টগ্রাম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সমাবেশের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

এই সমাবেশের মাধ্যমে দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য উজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হবে। একইসঙ্গে দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে জনমত গঠনের বার্তাও দেওয়া হবে। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা জানান, তরুণ-যুব সমাজের সমর্থন অর্জন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচি নির্ধারণের বৈঠক

রোববার দিনভর দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছেন। আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

পূর্ব অভিজ্ঞতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

এর আগে, ২০২৩ সালের জুন মাসে সারা দেশের বিভাগীয় শহরে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ করেছিল যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। তখন ‘তরুণ প্রজন্ম দেব ভোট, ভোটের জন্য যুদ্ধ হোক’— এই স্লোগান ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল তরুণদের মাঝে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট অনেক ভিন্ন। ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও জনগণ এখনো ভোটাধিকার ফিরে পায়নি। বিগত ১৬ বছর তরুণ সমাজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

তিন সংগঠনের নেতারা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আট মাস অতিক্রান্ত হলেও এখনো নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়নি। সরকার একেক সময় একেক কথা বলছে, নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যেই ন্যূনতম সংস্কার শেষে নির্বাচন দাবি করলেও, সরকারের বক্তব্যে নেতারা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। এই অবস্থায় কৌশলে সরকারকে চাপ দিতে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূলত এই সমাবেশের মাধ্যমে তিন সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি তরুণ ও যুবসমাজকে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আহ্বান জানানো হবে।