ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বঙ্গবন্ধু: আমি তো এই মাটিতেই জন্মেছি

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 113

“আমি আমার সহকর্মীদের বলতাম যে, ফরিদপুর জেলায় আমি জন্মগ্রহণ করেছি। অন্য জেলার ভাইবোনদের না দেখে তোমাদের কাছে তো আমি আগে যেতে পারি না… আমারও মন কাঁদে আপনাদের কাছে আসতে।”— কথাগুলো বলেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠের বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে এভাবেই নিজের জেলার মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ফরিদপুর কারাগার ও স্মৃতিকথা:

বঙ্গবন্ধুর জীবনের একটি দীর্ঘ ও মূল্যবান সময় কেটেছে ফরিদপুর জেলা কারাগারে। তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’য় সেই বন্দি জীবনের কষ্টকর ও বেদনাঘন দিনগুলোর বর্ণনা পাওয়া যায়। আজ সেই কারাগারের সেলটি না থাকলেও সেখানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে একটি স্মৃতিকর্নার।

বিধ্বস্ত ফরিদপুর ও বঙ্গবন্ধুর মানবিকতা:

১৯৭৩ সালের ১২ এপ্রিল ফরিদপুরের ২৬টি গ্রামে ভয়াবহ টর্নেডো আঘাত হানে। সেই ধ্বংসলীলা দেখে স্থির থাকতে পারেননি বঙ্গবন্ধু। ১৫ এপ্রিল তিনি নিজেই পায়ে হেঁটে বিধ্বস্ত গ্রামগুলো সফর করেন এবং আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করেন।

১৯৭২-এর সেই ভাষণ: দেশ গড়ার শপথ

স্বাধীনতার পর ফরিদপুরে তাঁর প্রথম ভাষণে বঙ্গবন্ধু আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছিলেন, “আমি জানতাম, আমাকে যে জেলের মধ্যে বন্দি করে রেখেছিল, ঠিক তার দরজার কাছে তারা আমার জন্য কবর খুঁড়েছিল। আমি বলেছিলাম, তোমরা মারতে পারো। কিন্তু সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুখে কালি মাখিয়ে তোমাদের কাছে আমি দয়া ভিক্ষা করতে চাই না।”

সেদিন তিনি দুর্নীতিবাজ ও ‘চাটার দল’কে হুঁশিয়ার করে দিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার যে ডাক দিয়েছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। আমি চাই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।”

ফরিদপুরের রাজনৈতিক অধ্যায় (১৯৪৮-১৯৫৮):

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্থানে ফরিদপুরের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

১৯৪৮ সালের ২৯ এপ্রিল: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে ফরিদপুরের এস.এন একাডেমি মাঠে ভাষণ দেন তিনি।

১৯৫২ ও ১৯৫৫: সাংগঠনিক সফরে এসে ফরিদপুর টাউন ক্লাব ময়দানে ৫০০০ মানুষের উপস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদ জানান।

১৯৫৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি: অম্বিকা ময়দানে ৮০০০ মানুষের বিশাল জনসভায় আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সবাইকে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।

ফরিদপুরের প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি। তাঁর সেই কালজয়ী ভাষণ এবং ঐতিহাসিক সফরগুলো আজও ফরিদপুরবাসীকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।

রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বঙ্গবন্ধু: আমি তো এই মাটিতেই জন্মেছি

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

“আমি আমার সহকর্মীদের বলতাম যে, ফরিদপুর জেলায় আমি জন্মগ্রহণ করেছি। অন্য জেলার ভাইবোনদের না দেখে তোমাদের কাছে তো আমি আগে যেতে পারি না… আমারও মন কাঁদে আপনাদের কাছে আসতে।”— কথাগুলো বলেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠের বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে এভাবেই নিজের জেলার মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ফরিদপুর কারাগার ও স্মৃতিকথা:

বঙ্গবন্ধুর জীবনের একটি দীর্ঘ ও মূল্যবান সময় কেটেছে ফরিদপুর জেলা কারাগারে। তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’য় সেই বন্দি জীবনের কষ্টকর ও বেদনাঘন দিনগুলোর বর্ণনা পাওয়া যায়। আজ সেই কারাগারের সেলটি না থাকলেও সেখানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে একটি স্মৃতিকর্নার।

বিধ্বস্ত ফরিদপুর ও বঙ্গবন্ধুর মানবিকতা:

১৯৭৩ সালের ১২ এপ্রিল ফরিদপুরের ২৬টি গ্রামে ভয়াবহ টর্নেডো আঘাত হানে। সেই ধ্বংসলীলা দেখে স্থির থাকতে পারেননি বঙ্গবন্ধু। ১৫ এপ্রিল তিনি নিজেই পায়ে হেঁটে বিধ্বস্ত গ্রামগুলো সফর করেন এবং আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করেন।

১৯৭২-এর সেই ভাষণ: দেশ গড়ার শপথ

স্বাধীনতার পর ফরিদপুরে তাঁর প্রথম ভাষণে বঙ্গবন্ধু আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছিলেন, “আমি জানতাম, আমাকে যে জেলের মধ্যে বন্দি করে রেখেছিল, ঠিক তার দরজার কাছে তারা আমার জন্য কবর খুঁড়েছিল। আমি বলেছিলাম, তোমরা মারতে পারো। কিন্তু সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুখে কালি মাখিয়ে তোমাদের কাছে আমি দয়া ভিক্ষা করতে চাই না।”

সেদিন তিনি দুর্নীতিবাজ ও ‘চাটার দল’কে হুঁশিয়ার করে দিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার যে ডাক দিয়েছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। আমি চাই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।”

ফরিদপুরের রাজনৈতিক অধ্যায় (১৯৪৮-১৯৫৮):

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্থানে ফরিদপুরের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

১৯৪৮ সালের ২৯ এপ্রিল: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে ফরিদপুরের এস.এন একাডেমি মাঠে ভাষণ দেন তিনি।

১৯৫২ ও ১৯৫৫: সাংগঠনিক সফরে এসে ফরিদপুর টাউন ক্লাব ময়দানে ৫০০০ মানুষের উপস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদ জানান।

১৯৫৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি: অম্বিকা ময়দানে ৮০০০ মানুষের বিশাল জনসভায় আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সবাইকে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।

ফরিদপুরের প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি। তাঁর সেই কালজয়ী ভাষণ এবং ঐতিহাসিক সফরগুলো আজও ফরিদপুরবাসীকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।