ভারতের রাফাল-ঘাতক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 74
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি এবং দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তায় এক বিশাল মাইলফলকের মুখোমুখি বাংলাদেশ। টানা প্রায় দেড় বছরের দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যালোচনার পর চিন থেকে চতুর্থ প্রজন্মের বহুমাত্রিক (MRCA) জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে। ইউরোপের চড়া দামের আধুনিক ফাইটারগুলোর তুলনায় শক্তি ও সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা চিনের এই ‘ভিগোরাস ড্রাগন’ বহর এখন সগৌরবে ডানা মেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক কমব্যাট সিচুয়েশনে চিনের তৈরি এই জে-১০সি যুদ্ধবিমানের সাফল্য এখন বিশ্ব স্বীকৃত। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে চুক্তির খসড়াপত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
কেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জে-১০সিই?
সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়ে নেওয়া এই জে-১০সি মূলত চিনা বিমানবাহিনীর মূল চালিকাশক্তি, যার রপ্তানি সংস্করণ হচ্ছে জে-১০সিই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ফাইটারের নাম শোরগোল ফেলে দেয় ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়ে। যেখানে ফ্রান্সের তৈরি ভারতের সাড়ে চার প্রজন্মের সর্বাধুনিক ‘দাসল্ট রাফাল’ (Dassault Rafale) ফাইটারকে পরাস্ত ও ধ্বংস করার দাবি তুলেছিল পাকিস্তান—যার নেপথ্যে ছিল এই জে-১০সিই-র নিখুঁত আঘাত।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এই বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন—
“কমব্যাট সিচুয়েশনে ইউরোপীয় ভ্যারিয়েন্টের রাফাল কিংবা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চিনা এই যুদ্ধবিমানের দাম যেমন আশাতীত কম, তেমনই এর সক্ষমতা বিশ্বপ্রমাণিত। বাংলাদেশ সরকার দেশের মানুষের প্রতিরক্ষা নিশ্ছিদ্র করতে যা যা দরকার, তার সব পদক্ষেপই নিশ্চিত করবে।”
প্রতিরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সমীক্ষা সংস্থা ‘দ্য ওয়ার জোনে’র তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুর আকাশ, স্থল বা সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে আঘাত হানতে সক্ষম। ছায়াপথের মতো রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থাকে চুরমার করার প্রযুক্তি রয়েছে এই ‘ভিগোরাস ড্রাগন’-এ।
প্রফেসর ইউনুসের বেইজিং সফর থেকে আজ: ভূরাজনৈতিক সমীকরণ
চিনের সঙ্গে এই মেগা সমরাস্ত্র ক্রয়ের সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপলে’ চিনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে বহুমাত্রিক যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ ব্যক্ত করেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস। পরবর্তীতে চলতি বছরের জুন মাসে বেইজিং সফরের আগে চিনের একটি উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল টিম ঢাকায় এসে চুক্তিপত্রের রূপরেখা ফলপ্রসূ রূপ দেয়।
তবে এই যুদ্ধবিমান কেনার খবর কেবল বিমানবাহিনীর শক্তিই বাড়াচ্ছে না, একই সাথে সৃষ্টি করছে ভূরাজনৈতিক চুলচেরা হিসাব-নিকাশ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান জানান—
“প্রযুক্তিগতভাবে চিনের জে-১০সি তার শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে এবং দীর্ঘদিন চিনা সমরাস্ত্র ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য এটি একটি স্বাভাবিক অগ্রগতি। তবে চিনের থেকে এই ফাইটার ক্রয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যে বা কূটনৈতিক ভারসাম্যে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে, সেই সমীকরণটা সতর্কভাবে সামলানো জরুরি।”











