‘জিম্মি’ ত্যাগী নেতারা, তাই বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিলেন শতাধিক নেতা
- আপডেট সময় : ১১:৩৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / 385
পিরোজপুর বিএনপিতে এখন চলছে ‘ফ্যাসিস্ট’ দলের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন। এমনটাই অভিযোগ করছেন দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা। গত কয়েক মাসে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী দলগুলোর শতাধিক নেতা পিরোজপুর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে এসেছেন। যাদের অনেকে এখনও পুরোনো দলের বিভিন্ন কমিটির সক্রিয় সদস্য। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী একযোগে দল থেকে পদত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় পিরোজপুর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নেতা রওনাকুল ইসলাম টিপুর কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়েই তৈরি করা হচ্ছে প্রাথমিক সদস্যের তালিকা।
ভাণ্ডারিয়ায় মঞ্চে পুলিশ রেখে সম্মেলন
ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় কমিটি গঠন নিয়ে শুরু থেকেই নানা জটিলতা দেখা দেয়। সেখানে জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু) এবং আওয়ামী লীগ থেকে আসা নেতাদের আধিপত্য নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লিখিত অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন সিকদার বলেন, দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে হাজার হাজার প্রাথমিক সদস্য ফরম বাতিল করা হয়েছে। এর বদলে অন্য দল থেকে আসা লোকজনকে ভোটার করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বঞ্চিত নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ঠেকাতে ভাণ্ডারিয়ার উপজেলা সম্মেলন মঞ্চে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের রেখে সম্মেলন সম্পন্ন করা হয়।
নাজিরপুরে বিএনপিতে বহু আওয়ামী লীগ নেতা
নাজিরপুর উপজেলা বিএনপির নেতাদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তারা কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর কাছে একটি লিখিত তালিকা জমা দিয়েছেন। সেখানে প্রমাণসহ দেখানো হয়েছে, অন্তত ৬৪ জন আওয়ামী লীগ নেতার নাম বিএনপির কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিরুয়ার রহমান জানান, মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২নং ওয়ার্ডের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান এখন একই ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি। শাখারীকাঠি ইউনিয়ন কৃষক লীগের কমিটির সদস্য এসেছেন ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদে। হিরুয়ার রহমান বলেন, “যুগ যুগ ধরে যারা বিএনপি করেছেন, তাদের বাদ দিয়ে এই কমিটি করা হয়েছে।”
মঠবাড়িয়ায় ক্ষোভে শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ
মঠবাড়িয়া উপজেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত। সেখানে বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে একসঙ্গে প্রায় ১৫০ জন নেতাকর্মী ক্ষোভে বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। এদের অধিকাংশের অভিযোগ, বহু বছর ধরে বিএনপি করার পরও প্রাথমিক সদস্যের তালিকায় তাদের নাম ওঠানো হয়নি।
ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, পকেট কমিটি করার জন্য আমিসহ প্রায় ৭০-৮০ জনের প্রাথমিক সদস্য ফরম গায়েব করা হয়েছে। তিনি জানান, “যাকে সভাপতি করা হয়েছে তিনি আওয়ামী লীগের লোক। তিনি সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন।” পিরোজপুর সদর, স্বরূপকাঠী এবং জিয়ানগর থেকেও একই ধরনের অভিযোগ আসছে।
কেন্দ্রীয় নেতার বক্তব্য
এসব অভিযোগ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতা রওনাকুল ইসলাম টিপু বলেন, “গ্রুপিং আর নেতৃত্বের কারণে এসব অভিযোগ আসে। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নাজিরপুরের বিষয়ে তিনি জানান, তদন্তে ১৩-১৪ জন পাওয়া গেছে যারা আওয়ামী লীগের পদে ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, গত এক বছরেও এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নজির দেখা যায়নি। বরং দিন দিন অভিযোগের পাল্লা আরও ভারী হচ্ছে।











