ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বিএনপি করে জীবনটা শেষ’: ফেসবুক লাইভে শ্রমিকদল নেতার বিষপান

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট:
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫
  • / 512

‘বিএনপি করে নিজের লাইফটা শেষ করলাম’— এমন হৃদয়বিদারক কথা বলে ফেসবুক লাইভে এসে বিষপান করেছেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক উমর ফারুক। বুধবার (২৫ জুন, ২০২৫) রাতে নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটার পর থেকে জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষপানের পর ছটফট করতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন এবং শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

উমর ফারুক ৮ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের লাইভে অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছেন। দলের নেতাকর্মীদের জন্য নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করেছেন, এমনকি স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎও নষ্ট হয়েছে বলে জানান। তবুও আজ তিনি অবহেলার শিকার।

অভিযোগ ও হতাশার কথা

লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপি করে নিজের লাইফটা শেষ করেছি। সামান্য একটি ঘটনা নিয়ে আমার নামে লালমনিরহাটে দুলুভাই ও রাজিবভাই ভিন্নভাবে অভিযোগ করেছেন। অথচ আমি কোনো খারাপ কাজ করিনি, বরং তাদের হাত ধরে ক্ষমাও চেয়েছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাটগ্রাম উপজেলার কিছু সুবিধাবাদী ও সুযোগসন্ধানী নেতার কারণে তিনি দল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন তিনি।

উমর ফারুক জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রচারের জন্য তিনি নিজের মালিকানাধীন জিনিস বিক্রি করে প্রতিটি ইউনিয়নে লিফলেট বিতরণ করেছেন।

বিষপানের আগে আবেগঘন বার্তা

লাইভে এসে বিষপান করার আগে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘সকালে আমার মেয়ের এইচএসসি পরীক্ষা। জানি না সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কিনা। আমি আর বাঁচতে চাই না। বিদায়, দুনিয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের জন্য কতবার মার খেয়েছি, কতদিন বাড়িতে থাকতে পারিনি, না খেয়ে থেকেছি, তা কেউ জানে না। আজ সুদিনে এসে কিছু সুবিধাবাদী নেতার কারণে আমাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো।’

লাইভে দেখা যায়, তিনি কীটনাশক জাতীয় বিষের বোতল দেখিয়ে পরে তা পান করে ফেলেন। একপর্যায়ে বিষক্রিয়া শুরু হলে ছটফট করতে করতে চিৎকার শুরু করেন। তখনই পরিবারের লোকজন ছুটে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, দলীয় নেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও হতাশা থেকে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। আর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান সোহেল এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান জানান, উমর ফারুকের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। এমন খবর পেয়ে সে আবেগপ্রবণ হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরও জানান, তারা উমর ফারুকের খোঁজখবর রাখছেন এবং বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, তিনিও ঘটনাটি জেনেছেন। উমর ফারুককে প্রথমে পাটগ্রাম সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘বিএনপি করে জীবনটা শেষ’: ফেসবুক লাইভে শ্রমিকদল নেতার বিষপান

আপডেট সময় : ১২:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫

‘বিএনপি করে নিজের লাইফটা শেষ করলাম’— এমন হৃদয়বিদারক কথা বলে ফেসবুক লাইভে এসে বিষপান করেছেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক উমর ফারুক। বুধবার (২৫ জুন, ২০২৫) রাতে নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটার পর থেকে জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষপানের পর ছটফট করতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন এবং শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

উমর ফারুক ৮ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের লাইভে অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছেন। দলের নেতাকর্মীদের জন্য নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করেছেন, এমনকি স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎও নষ্ট হয়েছে বলে জানান। তবুও আজ তিনি অবহেলার শিকার।

অভিযোগ ও হতাশার কথা

লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপি করে নিজের লাইফটা শেষ করেছি। সামান্য একটি ঘটনা নিয়ে আমার নামে লালমনিরহাটে দুলুভাই ও রাজিবভাই ভিন্নভাবে অভিযোগ করেছেন। অথচ আমি কোনো খারাপ কাজ করিনি, বরং তাদের হাত ধরে ক্ষমাও চেয়েছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাটগ্রাম উপজেলার কিছু সুবিধাবাদী ও সুযোগসন্ধানী নেতার কারণে তিনি দল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন তিনি।

উমর ফারুক জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রচারের জন্য তিনি নিজের মালিকানাধীন জিনিস বিক্রি করে প্রতিটি ইউনিয়নে লিফলেট বিতরণ করেছেন।

বিষপানের আগে আবেগঘন বার্তা

লাইভে এসে বিষপান করার আগে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘সকালে আমার মেয়ের এইচএসসি পরীক্ষা। জানি না সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কিনা। আমি আর বাঁচতে চাই না। বিদায়, দুনিয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের জন্য কতবার মার খেয়েছি, কতদিন বাড়িতে থাকতে পারিনি, না খেয়ে থেকেছি, তা কেউ জানে না। আজ সুদিনে এসে কিছু সুবিধাবাদী নেতার কারণে আমাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো।’

লাইভে দেখা যায়, তিনি কীটনাশক জাতীয় বিষের বোতল দেখিয়ে পরে তা পান করে ফেলেন। একপর্যায়ে বিষক্রিয়া শুরু হলে ছটফট করতে করতে চিৎকার শুরু করেন। তখনই পরিবারের লোকজন ছুটে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, দলীয় নেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও হতাশা থেকে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। আর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান সোহেল এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান জানান, উমর ফারুকের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। এমন খবর পেয়ে সে আবেগপ্রবণ হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরও জানান, তারা উমর ফারুকের খোঁজখবর রাখছেন এবং বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, তিনিও ঘটনাটি জেনেছেন। উমর ফারুককে প্রথমে পাটগ্রাম সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।