ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে দৌড়ে প্রাণ বাঁচালেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • / 1826

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ জুলাই, ২০২৫) বেলা আড়াইটার দিকে নগরকান্দা উপজেলা চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। তবে চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামের দাবি, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উস্কানিতেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম উপজেলা চত্বরে গেলে সেখানে আগে থেকে উপস্থিত থাকা কয়েকজন বিএনপি নেতা ও বিক্ষুব্ধ কিছু ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা কাজী আবুল কালামের জামার কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে কিছু দূরে নিয়ে কিল, চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। কয়েক মিনিট ধরে তার উপর এই হামলা চালানো হয়। নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে একটি মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধরা কাজী আবুল কালামকে ধাওয়াও করে।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। আওয়ামী লীগের দাপট দেখিয়ে তিনি এলাকায় ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা দিয়ে নাজেহাল করারও অভিযোগ আছে।

ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য

ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, “আমি দুপুরের দিকে শিশু কার্ডের সংশোধিত তালিকা নিয়ে উপজেলায় গেলে আগে থেকে সেখানে থাকা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফসহ ১৫-২০ জনের একটি দল আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আমাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। আমি কোনো রকমে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পাই। নইলে তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতো।” তিনি বিষয়টি ইউএনও এবং থানার ওসিকে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুলের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে বিএনপির সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ জানান, হামলার খবর শুনে তিনি উপজেলায় গিয়ে জানতে পারেন, চেয়ারম্যানের সাথে ভিজিএফ কার্ড নিয়ে স্থানীয়দের কথা কাটাকাটির পর তার ওপর হামলা হয়েছে। যারা চেয়ারম্যানের সাথে তর্কে লিপ্ত ছিলেন, তারা বিএনপির কর্মী। তবে তিনি নিজে হামলার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।

পুলিশের বক্তব্য

নগরকান্দা থানার সেকেন্ড অফিসার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে) আমিরুল ইসলাম জানান, লোকমুখে তিনি ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবুল কালামের ওপর হামলার ঘটনা শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।

ফরিদপুরে দৌড়ে প্রাণ বাঁচালেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ জুলাই, ২০২৫) বেলা আড়াইটার দিকে নগরকান্দা উপজেলা চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। তবে চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামের দাবি, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উস্কানিতেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম উপজেলা চত্বরে গেলে সেখানে আগে থেকে উপস্থিত থাকা কয়েকজন বিএনপি নেতা ও বিক্ষুব্ধ কিছু ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা কাজী আবুল কালামের জামার কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে কিছু দূরে নিয়ে কিল, চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। কয়েক মিনিট ধরে তার উপর এই হামলা চালানো হয়। নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে একটি মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধরা কাজী আবুল কালামকে ধাওয়াও করে।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। আওয়ামী লীগের দাপট দেখিয়ে তিনি এলাকায় ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা দিয়ে নাজেহাল করারও অভিযোগ আছে।

ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য

ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, “আমি দুপুরের দিকে শিশু কার্ডের সংশোধিত তালিকা নিয়ে উপজেলায় গেলে আগে থেকে সেখানে থাকা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফসহ ১৫-২০ জনের একটি দল আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আমাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। আমি কোনো রকমে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পাই। নইলে তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতো।” তিনি বিষয়টি ইউএনও এবং থানার ওসিকে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুলের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে বিএনপির সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ জানান, হামলার খবর শুনে তিনি উপজেলায় গিয়ে জানতে পারেন, চেয়ারম্যানের সাথে ভিজিএফ কার্ড নিয়ে স্থানীয়দের কথা কাটাকাটির পর তার ওপর হামলা হয়েছে। যারা চেয়ারম্যানের সাথে তর্কে লিপ্ত ছিলেন, তারা বিএনপির কর্মী। তবে তিনি নিজে হামলার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।

পুলিশের বক্তব্য

নগরকান্দা থানার সেকেন্ড অফিসার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে) আমিরুল ইসলাম জানান, লোকমুখে তিনি ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবুল কালামের ওপর হামলার ঘটনা শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।