ঢাকা ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে কিশোরী অপহরণ ও ধর্ষণ! অতঃপর…

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / 170

পাপের খতিয়ান যত দীর্ঘই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত যে তাকে আইনের কাঠগড়াতেই থিতু হতে হয়—ফরিদপুরের আদালত আজ যেন সেই চিরন্তন সত্যটিই আরও একবার মনে করিয়ে দিল। ভাঙ্গার মুন্সুরাবাদ বাজারে বাবার খাবারের দোকানে সকালের নাশতা পৌঁছে দিতে গিয়ে এক কিশোরীর জীবন কীভাবে এক লহমায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল, সেই ক্ষত আজও দগদগে। সেই নৃশংস অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় ৫ বছর পর অবশেষে আজ এলো ঐতিহাসিক রায়। প্রধান আসামি ফরহাদ হোসেনকে (২৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়া ছিল শূন্য; দীর্ঘ ৫ বছর ধরে পলাতক রয়েছে এই সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী।

২০২১-এর সেই কালো সকাল: টাকা লুট ও সম্ভ্রমহানি

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ২৯ মে সকালে। ভাঙ্গা উপজেলার মুন্সুরাবাদ বাজারে বাবার খাবারের দোকানে বাবার জন্য নাশতা নিয়ে যাচ্ছিল ওই কিশোরী। কিন্তু কে জানত, ওত পেতে থাকা একদল হায়েনা তার শৈশবকে কেড়ে নিতে সেই পথেই ওত পেতে বসে আছে! স্থানীয় সড়ক থেকে ফরহাদ হোসেন ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় মেয়েটিকে।

মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, অপহরণের সময় কিশোরীর কাছে বাবার দোকানের বিক্রির ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাও ছিল। অপরাধীরা সেই টাকা তো লুটে নেয়ই, উপরন্তু মেয়েটিকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

খাঁচা খালি, তবুও আইনের থাবা থেকে বাঁচার উপায় নেই!

তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার পর শুরু হয় আইনি লড়াই। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ একের পর এক সাক্ষী, অকাট্য মেডিকেল প্রতিবেদন ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য উপস্থাপন করে আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন—

“রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিজ্ঞ আদালতের নিখুঁত পর্যালোচনার মাধ্যমে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে। আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকলেও শেষ পর্যন্ত আইনের হাত থেকে রেহাই পায়নি। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

আদালত এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণার পাশাপাশি পলাতক আসামি ফরহাদ হোসেনকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ৫ বছর ধরে সে আদালতের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়ালেও, আজকের এই রায় প্রমাণ করল যে বিচারের বাণী শেষ পর্যন্ত নীরবে নিভৃতে কাঁদে না; বরং অপরাধীর সাজা নিশ্চিত করেই নিজের অস্তিত্বের জানান দেয়।

ফরিদপুরে কিশোরী অপহরণ ও ধর্ষণ! অতঃপর…

আপডেট সময় : ০৭:০১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

পাপের খতিয়ান যত দীর্ঘই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত যে তাকে আইনের কাঠগড়াতেই থিতু হতে হয়—ফরিদপুরের আদালত আজ যেন সেই চিরন্তন সত্যটিই আরও একবার মনে করিয়ে দিল। ভাঙ্গার মুন্সুরাবাদ বাজারে বাবার খাবারের দোকানে সকালের নাশতা পৌঁছে দিতে গিয়ে এক কিশোরীর জীবন কীভাবে এক লহমায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল, সেই ক্ষত আজও দগদগে। সেই নৃশংস অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় ৫ বছর পর অবশেষে আজ এলো ঐতিহাসিক রায়। প্রধান আসামি ফরহাদ হোসেনকে (২৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়া ছিল শূন্য; দীর্ঘ ৫ বছর ধরে পলাতক রয়েছে এই সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী।

২০২১-এর সেই কালো সকাল: টাকা লুট ও সম্ভ্রমহানি

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ২৯ মে সকালে। ভাঙ্গা উপজেলার মুন্সুরাবাদ বাজারে বাবার খাবারের দোকানে বাবার জন্য নাশতা নিয়ে যাচ্ছিল ওই কিশোরী। কিন্তু কে জানত, ওত পেতে থাকা একদল হায়েনা তার শৈশবকে কেড়ে নিতে সেই পথেই ওত পেতে বসে আছে! স্থানীয় সড়ক থেকে ফরহাদ হোসেন ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় মেয়েটিকে।

মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, অপহরণের সময় কিশোরীর কাছে বাবার দোকানের বিক্রির ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাও ছিল। অপরাধীরা সেই টাকা তো লুটে নেয়ই, উপরন্তু মেয়েটিকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

খাঁচা খালি, তবুও আইনের থাবা থেকে বাঁচার উপায় নেই!

তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার পর শুরু হয় আইনি লড়াই। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ একের পর এক সাক্ষী, অকাট্য মেডিকেল প্রতিবেদন ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য উপস্থাপন করে আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন—

“রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিজ্ঞ আদালতের নিখুঁত পর্যালোচনার মাধ্যমে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে। আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকলেও শেষ পর্যন্ত আইনের হাত থেকে রেহাই পায়নি। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

আদালত এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণার পাশাপাশি পলাতক আসামি ফরহাদ হোসেনকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ৫ বছর ধরে সে আদালতের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়ালেও, আজকের এই রায় প্রমাণ করল যে বিচারের বাণী শেষ পর্যন্ত নীরবে নিভৃতে কাঁদে না; বরং অপরাধীর সাজা নিশ্চিত করেই নিজের অস্তিত্বের জানান দেয়।