ফরিদপুর বিএনপি: কমিটিতে আ. লীগের ‘নৌকার চাষ
- আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 553
ফরিদপুর জেলার তিনটি উপজেলা ও পৌরসভার বিএনপির সদ্যঘোষিত কমিটিতে আওয়ামী লীগ (আ. লীগ) এবং এর অঙ্গসংগঠনের পদধারী ও সক্রিয় কর্মী—কমপক্ষে ২৭ জন—স্থান পেয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পদবঞ্চিত ও ত্যাগী বিএনপি কর্মীদের মন্তব্য, এটি ‘বিএনপির ঘরে আওয়ামী লীগের সংসার’ পাতার শামিল। কমিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে “নির্দেশিত হয়ে” অনুমোদন করা হয়েছে বলে উল্লেখ থাকায় বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই জেলার আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলায় বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ, মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
আলফাডাঙ্গায় আ. লীগের দাপট
আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপিতে আ. লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কমপক্ষে সাতজন পদধারী নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন:
ব্যক্তির পরিচয় (আ. লীগ পদ) প্রাপ্ত পদ (বিএনপি কমিটি) প্রাসঙ্গিক তথ্য
মিয়া আসাদুজ্জামান (আসাদ মাস্টার) সহ-সভাপতি (১১ নং) উপজেলা আ. লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক। ২০২১ সালে নৌকা প্রতীকে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত।
আব্দুল ওহাব পান্নু সহ-সভাপতি (৫ নং) আলফাডাঙ্গা উপজেলা আ. লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য।
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (মাসুদ মাস্টার) সহ-সভাপতি (৪ নং) উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি।
মনিরুজ্জামান মনির সহ-সাধারণ সম্পাদক (২০ নং) গত জাতীয় নির্বাচনে আ. লীগ প্রার্থী আব্দুর রহমানের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণাকারী।
মো. জাকার মেম্বার সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক (৭১ নং) আলফাডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক।
মো. ওহিদ শিকদার মেম্বার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (২৩ নং) গোপালপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
কামরুজ্জামান কদর প্রচার সম্পাদক (পৌর কমিটি) জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি।
নুরুল ইসলাম লিটন সদস্য (৯৮ নং) সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার (ফ্যাসিবাদী বাস্তবায়নকারী) আপন শ্যালক।
বোয়ালমারী ও মধুখালীর চিত্র
বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলাতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে:
অমিত সাহা (বোয়ালমারী): আ. লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং চাচা-ভাতিজার সম্পর্কের জন্য পরিচিত। তাকে উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।
মওলা বিশ্বাস (বোয়ালমারী): দাদপুর ইউনিয়ন আ. লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য (৮১ নং)।
সাইফুল ইসলাম বকুল (বোয়ালমারী): দাদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য।
নাজমা সুলতানা (মধুখালী): বাংলাদেশ মহিলা আ. লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক এর ঘনিষ্ঠ এবং আ. লীগ মনোনীত নির্বাচিত মহিলা কাউন্সিলর। তাকে উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে।
অন্যান্য: মধুখালীতে আ. লীগের সক্রিয় কর্মী হিসাবে পরিচিত মিলন মোল্লা সহ-দপ্তর সম্পাদক, রায়হান মোল্লা পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ, মো. মিরাজুল ইসলাম মিল্টন সহ-সভাপতি এবং আনোয়ার হোসেন উপজেলা বিএনপির সদস্য পদ পেয়েছেন।
নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও রহস্যময় অনুমোদন
দলীয় পদবঞ্চিত এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীরা এই কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মন্তব্য, যাঁরা দীর্ঘদিন আ. লীগ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাঁদের বাদ দিয়ে আ. লীগ পদধারীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো: কমিটি অনুমোদনের সাক্ষরের স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে—’নির্দেশিত হয়ে এই কমিটি অনুমোদন করা হইলো।’ এই ‘নির্দেশিত’ শব্দটি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এক বড় রহস্যের জন্ম দিয়েছে এবং কার নির্দেশে এমন ‘আওয়ামী লীগ মিশ্রিত’ কমিটি গঠিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।












