আদালতে এসে ব্যাগে গাঁজা! ফরিদপুরে আসামির নজিরবিহীন কাণ্ড
- আপডেট সময় : ০১:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 198
কথায় বলে, ‘চোরের দশ দিন তো গৃহস্থের এক দিন’। কিন্তু অপরাধের হ্যাংওভার বা ধৃষ্টতা যে আদালত কক্ষের দোরগোড়াতেও পৌঁছে যেতে পারে, তার এক নজিরবিহীন ও চাবুক উদাহরণ তৈরি হলো ফরিদপুরে। যে মাদক মামলার বিষবাষ্প থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বিচারকের সমন মেনে আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন, সেই মামলার আলামত অর্থাৎ ব্যাগভর্তি গাঁজা সাথে করেই কাঠগড়ার সামনে উপস্থিত হলেন এক বৃদ্ধ আসামি!
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে ঘটেছে এই অদ্ভুত ও চোখ কপালে ওঠার মতো ঘটনা। আদালতের চোখ ফাঁকি দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে অবশেষে বিচারকের চাবুক রায়ে শ্রীঘরে ঠাঁই হলো তাঁর। পুরো নাটকের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
৭১ বছরের বৃদ্ধ ও ব্যাগের গোপন বস্তুর গোলকধাঁধা
ঘটনার নায়ক মধুখালী উপজেলার মৃত মতি মোল্লার ছেলে কাশেদ মোল্লা (৭১)। বয়স সতেরো পেরিয়ে একাত্তরে পৌঁছালেও অপরাধের অভ্যাস যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা প্রমাণ করলেন তিনি নিজেই। মধুখালী থানার পুরনো একটি মাদক মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিতে সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম রেজার আদালতে স্বশরীরে প্রবেশ করেন কাশেদ।
তবে বাঁধ সাধল তাঁর হাতের একটি ময়লা ব্যাগ। আদালতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্টাফ মেহেদী ও মুরাদ প্রবীণ এই আসামির হাতে ব্যাগ দেখে নিরাপত্তার স্বার্থে জানতে চান ভেতরে কী আছে। আর অমনি শুরু হয় কাশেদের অস্বাভাবিক আমতা আমতা ও গড়িমসি। বাঘের মতো চতুর আদালত কর্মীদের সন্দেহের তীর আরও ঘনীভূত হয়। চেপে ধরা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অবশেষে নাছোড়বান্দা আসামি স্বীকার করে বসেন, ব্যাগের ভেতর লুকিয়ে রাখা রয়েছে নিষিদ্ধ মাদক!
মুহূর্তের মধ্যে খবর দেওয়া হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে। কর্মকর্তা ও উপস্থিত জনসমক্ষে কাশেদ মোল্লার ব্যাগ তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে কটু গন্ধযুক্ত ১৫০ গ্রাম গাঁজা। আদালত চত্বরে এ যেন প্রদীপের নিচে ঘোর অন্ধকার!
দ্রুত বিচার ও আদালতের চাবুক রায়
আদালত চত্বরেই মাদক উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক রাসেল কবির ও আদালতের পেশকার জিয়ারত মিয়া জানান, আসামির এমন ধৃষ্টতায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক আইনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে সংক্ষিপ্ত বিচারের আবেদন জানানো হয়।
ঘটনার গুরুত্ব ও স্পর্ধা বিবেচনা করে ফরিদপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতের বিচক্ষণ বিচারক মো. নাজমুল কবীর আর কালক্ষেপণ করেননি। সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়া শেষে আসামি কাশেদ মোল্লাকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে সরাসরি জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।












