ফরিদপুরে ডিম খাওয়া নিয়ে বিরোধে মারামারি, ঠেকাতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু
- আপডেট সময় : ১১:৩১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 111
ফরিদপুরের সালথায় এক অবাস্তব ও মর্মান্তিক ঘটনায় থমকে গেছে পুরো এলাকা। সামান্য ডিম খাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ছেলের মারামারি থামাতে গিয়ে মো. লুৎফার মোল্যা (৫০) নামে এক কৃষকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মোন্তারমোড় বাজারে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত লুৎফার মোল্যা উপজেলার চান্দাখোলা গ্রামের মৃত পান্নু মোল্যার ছেলে। পেশায় তিনি একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন।
সামান্য ডিম কাণ্ড থেকে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় সোনাপুর ইউনিয়নের মোন্তারমোড় বাজারে একটি দোকানে ডিম খাওয়া নিয়ে লুৎফারের ছেলে মো. লিয়াকত মোল্যার সঙ্গে প্রতিবেশী যুবক আলামিন ও মো. শামের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কথার পিঠে কথা বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি লেগে যায়।
বাজারে ছেলের মারামারির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন লুৎফার মোল্যা। তিনি উত্তেজিত যুবকদের থামানো এবং ছেলেকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। কিন্তু বিবাদ থামানোর পরপরই তীব্র উত্তেজনা ও শারীরিক মানসিক ধকল সহ্য করতে না পেরে লুৎফার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাস্থলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
কিল-ঘুষির অভিযোগ বনাম পুলিশের ‘হৃদরোগ’ তত্ত্ব
লুৎফার মোল্যার এই আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, হাতাহাতি থামানোর সময় লুৎফারকে প্রতিপক্ষের যুবকেরা কিল-ঘুষি মারে। সেই শারীরিক আঘাত ও লাঞ্ছনার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে ঢলে পড়েন।
তবে আঘাতজনিত মৃত্যুর এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে সালথা থানা পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, “ডিম খাওয়া কেন্দ্র করে লুৎফারের ছেলের সঙ্গে দুই যুবকের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি হচ্ছিল। এ সময় পিতা হিসেবে লুৎফার তা থামাতে এগিয়ে যান। তবে আমাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোনো আঘাতে নয়, বরং প্রচণ্ড মানসিক উত্তেজনা থেকে হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোনো বাহ্যিক চিহ্ন বা তথ্য পুলিশের কাছে নেই। এ ছাড়া এ ঘটনায় পরিবার বা স্থানীয়দের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।”











