ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর: ‘মইরা যাওয়াই ভালো!’ ফুটপাতে বাবা, সন্তানরাই এখন ‘বোঝা’

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / 310

এক সময় অটোরিকশা চালিয়ে ঘামঝরা পরিশ্রমে চার ছেলে-মেয়েকে মানুষ করেছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আলেপ মৃধা। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই সন্তানদের কাছেই এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই অসহায় পিতা। স্ট্রোকজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গত আড়াই বছর ধরে ফরিদপুর শহরের ফুটপাতে চলছে তাঁর মানবেতর জীবন।

ফুটপাতে চরম কষ্টের মধ্যে থেকেও আলেপ মৃধার আকুতি, অনুযোগ, সব মিলিয়ে যেন এক আর্তনাদে ধ্বনিত হয়—‘মইরা যাওয়াই ভালো ভাই!’

ফুটপাতে জীবন-সংসার

ফরিদপুর শহরের সরকারি সার্কিট হাউস সংলগ্ন সড়কের পাশে, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনেই মাদুর বিছিয়ে দুই মাস ধরে দিন কাটাচ্ছেন আলেপ মৃধা ও তাঁর স্ত্রী শিল্পী বেগম। এর আগে শহরের বিভিন্ন জায়গায় এভাবেই কেটেছে তাঁদের দিনরাত।

অসুস্থতা: তিন বছর আগে স্ট্রোক করে আলেপ মৃধার শরীরের এক পাশ অচল হয়ে যায়।

পূর্বের পরিচয়: আলেপ মৃধা ফরিদপুর শহরতলীর শোভারামপুর স্লুইসগেট এলাকার বাসিন্দা। তাঁর প্রথম স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে বর্তমানে নিজ নিজ জীবন যাপন করছেন।

পিতার অভিযোগ: ‘কেউ ভাত দেয় না ভাই!’

বৃহস্পতিবার রাতে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকা এই দম্পতির দেখা মেলে। অসুস্থ স্বামীকে পরম যত্নে শুকনো খিচুড়ি খাইয়ে দিচ্ছিলেন শিল্পী বেগম।

অসুস্থ আলেপ মৃধা অস্পষ্ট কণ্ঠে বলেন, “আগে আমি অটো চালাইতাম। আমার ছাওয়াল-মাইয়্যারা খাবার দেয় না। কেউ ভাত দেয় না ভাই। গতকাল থেইক্যা না খাইয়া আছি। আমার এক সাইড পড়া, হাঁটতে পারি না। আমার কপালে কি কষ্ট! মইরা যাওয়াই ভালো ভাই!”

তাঁর অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে সন্তানদের নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তিনি ইশারা করে বলেন, বাড়িতে গেলেই তাঁর স্ত্রীকে মারা হয়, তাই তিনি আর ওই বাড়িতে ফিরতে চান না।

সন্তানদের বক্তব্য: দ্বিতীয় স্ত্রীই সমস্যার মূল

এ বিষয়ে কথা হয় আলেপ মৃধার বড় মেয়ে শাবনুর বেগমের সঙ্গে। তিনি পিতার মারধরের অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।

শাবনুরের ভাষ্য: তাঁর বাবা প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকতেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং তখন থেকেই আলাদা হয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন, আলেপ মৃধা দ্বিতীয় স্ত্রীকে ছাড়া কিছুই বোঝেন না এবং এই বিয়ের কারণে সব জমিজমা বিক্রি করেছেন। শাবনুর বলেন, “আমরা অনেকবার গিয়েছি নিতে, যায় না। গেলে কিছুদিন থেকে আবার চলে যায়।”

প্রশাসনের উদ্যোগ

তরুণ সমাজকর্মী আবরার নাদিম ইতু জানান, তিনি খোঁজ নিয়েছেন এবং পারিবারিক কিছু ঝামেলা আছে। তিনি সমাজসেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি সমাধানের চেষ্টা করবেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জানলাম। খোঁজ নিয়ে দ্রুত একটা ব্যবস্থা করা হবে।”

ফরিদপুর: ‘মইরা যাওয়াই ভালো!’ ফুটপাতে বাবা, সন্তানরাই এখন ‘বোঝা’

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

এক সময় অটোরিকশা চালিয়ে ঘামঝরা পরিশ্রমে চার ছেলে-মেয়েকে মানুষ করেছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আলেপ মৃধা। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই সন্তানদের কাছেই এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই অসহায় পিতা। স্ট্রোকজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গত আড়াই বছর ধরে ফরিদপুর শহরের ফুটপাতে চলছে তাঁর মানবেতর জীবন।

ফুটপাতে চরম কষ্টের মধ্যে থেকেও আলেপ মৃধার আকুতি, অনুযোগ, সব মিলিয়ে যেন এক আর্তনাদে ধ্বনিত হয়—‘মইরা যাওয়াই ভালো ভাই!’

ফুটপাতে জীবন-সংসার

ফরিদপুর শহরের সরকারি সার্কিট হাউস সংলগ্ন সড়কের পাশে, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনেই মাদুর বিছিয়ে দুই মাস ধরে দিন কাটাচ্ছেন আলেপ মৃধা ও তাঁর স্ত্রী শিল্পী বেগম। এর আগে শহরের বিভিন্ন জায়গায় এভাবেই কেটেছে তাঁদের দিনরাত।

অসুস্থতা: তিন বছর আগে স্ট্রোক করে আলেপ মৃধার শরীরের এক পাশ অচল হয়ে যায়।

পূর্বের পরিচয়: আলেপ মৃধা ফরিদপুর শহরতলীর শোভারামপুর স্লুইসগেট এলাকার বাসিন্দা। তাঁর প্রথম স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে বর্তমানে নিজ নিজ জীবন যাপন করছেন।

পিতার অভিযোগ: ‘কেউ ভাত দেয় না ভাই!’

বৃহস্পতিবার রাতে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকা এই দম্পতির দেখা মেলে। অসুস্থ স্বামীকে পরম যত্নে শুকনো খিচুড়ি খাইয়ে দিচ্ছিলেন শিল্পী বেগম।

অসুস্থ আলেপ মৃধা অস্পষ্ট কণ্ঠে বলেন, “আগে আমি অটো চালাইতাম। আমার ছাওয়াল-মাইয়্যারা খাবার দেয় না। কেউ ভাত দেয় না ভাই। গতকাল থেইক্যা না খাইয়া আছি। আমার এক সাইড পড়া, হাঁটতে পারি না। আমার কপালে কি কষ্ট! মইরা যাওয়াই ভালো ভাই!”

তাঁর অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে সন্তানদের নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তিনি ইশারা করে বলেন, বাড়িতে গেলেই তাঁর স্ত্রীকে মারা হয়, তাই তিনি আর ওই বাড়িতে ফিরতে চান না।

সন্তানদের বক্তব্য: দ্বিতীয় স্ত্রীই সমস্যার মূল

এ বিষয়ে কথা হয় আলেপ মৃধার বড় মেয়ে শাবনুর বেগমের সঙ্গে। তিনি পিতার মারধরের অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।

শাবনুরের ভাষ্য: তাঁর বাবা প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকতেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং তখন থেকেই আলাদা হয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন, আলেপ মৃধা দ্বিতীয় স্ত্রীকে ছাড়া কিছুই বোঝেন না এবং এই বিয়ের কারণে সব জমিজমা বিক্রি করেছেন। শাবনুর বলেন, “আমরা অনেকবার গিয়েছি নিতে, যায় না। গেলে কিছুদিন থেকে আবার চলে যায়।”

প্রশাসনের উদ্যোগ

তরুণ সমাজকর্মী আবরার নাদিম ইতু জানান, তিনি খোঁজ নিয়েছেন এবং পারিবারিক কিছু ঝামেলা আছে। তিনি সমাজসেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি সমাধানের চেষ্টা করবেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জানলাম। খোঁজ নিয়ে দ্রুত একটা ব্যবস্থা করা হবে।”