ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর: চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব’ জামায়াতের জনসমুদ্র থেকে হুঁশিয়ারি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 370

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের আয়োজন করতে হবে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে ফরিদপুর শহরের অম্বিকা ময়দানে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। সমাবেশে সমমনা ৮টি দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একইদিনে দু’টি নির্বাচনের (জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট) আয়োজন করলে জনগণের ঠিকমতো ভোট দিতে না পারার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। “আমরা ২৪ এর পূর্বে ফিরে যেতে চাই না। আমরা এই অবস্থার একটা আইনি ভিত্তি দিতে চাই,”—তিনি উল্লেখ করেন।

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও জুলাই সনদ

আজহারুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামী অন্য ইসলামিক দল ও শরিক দল নিয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে।

আইনি ভিত্তি: তিনি জানান, ২৪-এর গণবিপ্লবের মাধ্যমে যে জুলাই সনদে তাঁরা সবাই স্বাক্ষর করেছেন, সেই সনদকে একটি আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য গণভোট অপরিহার্য।

আদর্শিক পরিবর্তন: তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন কোনো ক্ষমতা বদলের নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচন আদর্শিক পরিবর্তনের নির্বাচন। এবারের নির্বাচন সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন।”

ভোট পাহারা ও কঠোর হুঁশিয়ারি

জামায়াতের এই নায়েবে আমির নেতা-কর্মীদের প্রতি ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ভোট কারচুপি প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

পাহারা: তিনি যুবকদের প্রতি আহ্বান জানান, “প্রত্যেকটা ভোটকেন্দ্রে পাহারা দিবেন। আপনারা পাহারা দিবেন ভোট চুরি করার জন্য নয়, ভোট ডাকাতি করার জন্য নয়।”

সরাসরি হুঁশিয়ারি: তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “যারা ভোট দিতে বাধা দিবেন, যারা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে আসবে, তারাও দু’হাত নিয়ে আসবে, আপনারও দু’হাত আছে; তারা যেন দুই হাত ফেরত নিয়ে না যেতে পারে। আমরা কারো ভোটাধিকার নষ্ট হতে দেবো না ইনশাআল্লাহ।”

নিরাপত্তা ও আইন: বক্তারা বলেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে অমুসলিমসহ দেশের ১৮ কোটি মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে এবং নারীরা নিরাপদ থাকবেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, অমুসলিমরা এবং দুর্গাপূজা এবার নিরাপদ ছিল, যা প্রমাণ করে ইসলামী দল ক্ষমতায় এলে সবাই নিরাপদ থাকে।

“আমরা চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমার দেশকে কোনো অশুভ শক্তি বা আধিপত্য শক্তির হাতে তুলে দেবো না, মাথা নত করবো না।”

ত্যাগ ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তন

আজহারুল ইসলাম বিগত সরকারের জুলুমের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জামায়াত অনেক ত্যাগ স্বীকার করে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে।

নেতৃত্বের দৃঢ়তা: তিনি বলেন, যারা একদিন বলেছিল জামায়াতকে ফুৎকারে নিশ্চিহ্ন করে দেবে, তারা আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ: তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ না করে বলেন, “কথায় কথায় শুনতাম অমুকের বেটি দেশ ছেড়ে পালায় না। এখন সেই বেটিও কিন্তু দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর লোকেরা জনগণকে ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় নাই। ফাঁসির কাষ্ঠে হাসিমুখে মৃত্যু বরণ করে শহীদ হয়েছে।”

লক্ষ্য: তিনি বলেন, তাঁদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, তাঁরা দেশকে সোনার বাংলা, স্বাধীন বাংলাদেশ এবং জনগণের ঈমান আকিদা চেতনার বাংলাদেশ দেখতে চান।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থী পরিচিতি

ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ বদরুদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন ও অঞ্চল টিম সদস্য শামসুল ইসলাম আল্ বরাটী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।

উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফরিদপুর জেলা শাখা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ছেলে হাসান জামিল, শহীদ আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর,  বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ রেজাউল হোসেন শামীম সহ সমমনা ৮টি দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রার্থী পরিচিতি:

এটিএম আজহারুল ইসলাম ফরিদপুরের ৪টি আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন:

ফরিদপুর-৩ (সদর): অধ্যাপক আবদুত তাওয়াব

ফরিদপুর-১: অধ্যাপক ডা: ইলিয়াস মোল্লা

ফরিদপুর-২: মাওলানা সোহরাব হোসাইন

ফরিদপুর-৪: মাওলানা সরোয়ার হোসাইন

ফরিদপুর: চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব’ জামায়াতের জনসমুদ্র থেকে হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৮:৩০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের আয়োজন করতে হবে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে ফরিদপুর শহরের অম্বিকা ময়দানে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। সমাবেশে সমমনা ৮টি দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একইদিনে দু’টি নির্বাচনের (জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট) আয়োজন করলে জনগণের ঠিকমতো ভোট দিতে না পারার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। “আমরা ২৪ এর পূর্বে ফিরে যেতে চাই না। আমরা এই অবস্থার একটা আইনি ভিত্তি দিতে চাই,”—তিনি উল্লেখ করেন।

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও জুলাই সনদ

আজহারুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামী অন্য ইসলামিক দল ও শরিক দল নিয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে।

আইনি ভিত্তি: তিনি জানান, ২৪-এর গণবিপ্লবের মাধ্যমে যে জুলাই সনদে তাঁরা সবাই স্বাক্ষর করেছেন, সেই সনদকে একটি আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য গণভোট অপরিহার্য।

আদর্শিক পরিবর্তন: তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন কোনো ক্ষমতা বদলের নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচন আদর্শিক পরিবর্তনের নির্বাচন। এবারের নির্বাচন সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন।”

ভোট পাহারা ও কঠোর হুঁশিয়ারি

জামায়াতের এই নায়েবে আমির নেতা-কর্মীদের প্রতি ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ভোট কারচুপি প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

পাহারা: তিনি যুবকদের প্রতি আহ্বান জানান, “প্রত্যেকটা ভোটকেন্দ্রে পাহারা দিবেন। আপনারা পাহারা দিবেন ভোট চুরি করার জন্য নয়, ভোট ডাকাতি করার জন্য নয়।”

সরাসরি হুঁশিয়ারি: তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “যারা ভোট দিতে বাধা দিবেন, যারা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে আসবে, তারাও দু’হাত নিয়ে আসবে, আপনারও দু’হাত আছে; তারা যেন দুই হাত ফেরত নিয়ে না যেতে পারে। আমরা কারো ভোটাধিকার নষ্ট হতে দেবো না ইনশাআল্লাহ।”

নিরাপত্তা ও আইন: বক্তারা বলেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে অমুসলিমসহ দেশের ১৮ কোটি মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে এবং নারীরা নিরাপদ থাকবেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, অমুসলিমরা এবং দুর্গাপূজা এবার নিরাপদ ছিল, যা প্রমাণ করে ইসলামী দল ক্ষমতায় এলে সবাই নিরাপদ থাকে।

“আমরা চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমার দেশকে কোনো অশুভ শক্তি বা আধিপত্য শক্তির হাতে তুলে দেবো না, মাথা নত করবো না।”

ত্যাগ ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তন

আজহারুল ইসলাম বিগত সরকারের জুলুমের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জামায়াত অনেক ত্যাগ স্বীকার করে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে।

নেতৃত্বের দৃঢ়তা: তিনি বলেন, যারা একদিন বলেছিল জামায়াতকে ফুৎকারে নিশ্চিহ্ন করে দেবে, তারা আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ: তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ না করে বলেন, “কথায় কথায় শুনতাম অমুকের বেটি দেশ ছেড়ে পালায় না। এখন সেই বেটিও কিন্তু দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর লোকেরা জনগণকে ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় নাই। ফাঁসির কাষ্ঠে হাসিমুখে মৃত্যু বরণ করে শহীদ হয়েছে।”

লক্ষ্য: তিনি বলেন, তাঁদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, তাঁরা দেশকে সোনার বাংলা, স্বাধীন বাংলাদেশ এবং জনগণের ঈমান আকিদা চেতনার বাংলাদেশ দেখতে চান।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থী পরিচিতি

ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ বদরুদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন ও অঞ্চল টিম সদস্য শামসুল ইসলাম আল্ বরাটী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।

উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফরিদপুর জেলা শাখা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ছেলে হাসান জামিল, শহীদ আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর,  বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ রেজাউল হোসেন শামীম সহ সমমনা ৮টি দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রার্থী পরিচিতি:

এটিএম আজহারুল ইসলাম ফরিদপুরের ৪টি আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন:

ফরিদপুর-৩ (সদর): অধ্যাপক আবদুত তাওয়াব

ফরিদপুর-১: অধ্যাপক ডা: ইলিয়াস মোল্লা

ফরিদপুর-২: মাওলানা সোহরাব হোসাইন

ফরিদপুর-৪: মাওলানা সরোয়ার হোসাইন