ফরিদপুরে পরিত্যক্ত ভবন থেকে পুলিশের কার্তুজ ও গ্রেনেড উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 173
গণঅভ্যুত্থানের সেই উত্তাল দিনে থানা ও পুলিশ বক্স ভেঙে ছাতু করে লুটে নেওয়া হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদ। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সেসব বিপজ্জনক মারণাস্ত্রের কতটা কার হাতে লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে তৈরি হচ্ছিল গভীর ধোঁয়াশা। অবশেষে সেই গোপন আস্তানার হদিস মিলল পদ্মাপাড়ের ফরিদপুরে। পরিত্যক্ত এক ভবনের আঁধার কুঠুরি থেকে উদ্ধার হলো পুলিশ বাহিনীরই টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড আর তাজা কার্তুজের বড় চালান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকার আখ সেন্টার মাঠ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০-এর এক ঝটিকা অভিযানে এই বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান, থোকা থোকা বিস্ফোরক উদ্ধার
এসআরবি-১০ সূত্রে জানা গেছে, কানাইপুর এলাকায় পরিত্যক্ত একটি ভবনে বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত গোলাবারুদ জমা করে রাখা হয়েছে—এমন এক সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়দানে নামে বাহিনীটি। সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল তৎক্ষণাৎ আখ সেন্টার মাঠ সংলগ্ন এলাকাটি কর্ডন করে ফেলে।
পরবর্তীতে ওই নির্জন ভবনের ভেতর জোরদার তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ২৭ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, ১৩টি টিয়ার গ্যাস শেল এবং ৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী সাউন্ড গ্রেনেড। ঝটিকা অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কানাইপুর ও আশপাশের এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
৫ আগস্টের সেই তাণ্ডব ও লুটপাট
প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর এসআরবি-১০ নিশ্চিত করেছে যে, উদ্ধার হওয়া এই প্রাণঘাতী গোলাবারুদগুলো মূলত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগে বিভিন্ন থানা ও পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে লুট করে নেওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ।
বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনা নিশ্চিত করে এসআরবি জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাটিতে আরও কোনো অপরাধচক্র এই অস্ত্র মজুতের পেছনে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।












