ফরিদপুরে ধানখেতের পাশ থেকে যুবকের বস্তাবন্দি ৬ টুকরো মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০২:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 392
সকালের স্নিগ্ধ আলোয় গ্রামীণ জনপদের রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলা পথচারীদের হঠাৎ চোখে পড়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা তিনটি অদ্ভুত ও সন্দেহজনক প্লাস্টিকের বস্তা। মুখ বাঁধা বস্তাগুলোর দিকে তাকাতেই গা শিউরে ওঠে স্থানীয়দের। কাছে গিয়ে দেখা যায়, সেখান থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট গন্ধ। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে পিনপতন নীরবতা ও আতঙ্ক।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বোয়ালিয়া স্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকা থেকে এভাবেই উদ্ধার করা হয়েছে এক অজ্ঞাতনামা যুবকের ছয় টুকরো খণ্ডিত মরদেহ। পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে ফরিদপুরগামী পাকা সড়কের ডান পাশে লাভলু মল্লিক ও ইসহাক মিয়ার ধানখেত। ওই খেতের পাশে একটি পুরোনো তালগাছের গোড়ায় তিনটি মুখ বাঁধা প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। কোনো গভীর চক্রান্ত বা অপরাধের গন্ধ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
৯৯৯-এর ফোন পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ, বস্তা খুলতেই বিভীষিকা
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবং মধুখালী থানার এসআই মাসুদুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই একে একে খোলা হয় বস্তা তিনটির মুখ।
আর তাতেই বেরিয়ে আসে এক পৈশাচিক দৃশ্য। আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা পুরুষের মরদেহের ছয়টি বিচ্ছিন্ন অংশ বেরিয়ে আসে বস্তাগুলো থেকে। শরীর থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে ও নৃশংসভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো আলাদা করা হয়েছিল। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। তবে নিহত ওই ব্যক্তির পরিচয় বা ঠিকানা তখনো মেলেনি।
ময়নাতদন্ত ও পরিচয় শনাক্তে পুলিশের তৎপরতা
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীদের ধরতে এবং নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে জোরেশোরে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান—
“উদ্ধারকৃত খণ্ডিত মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিচয় না মেলে, তবে ধর্মীয় রীতি ও বিধান অনুযায়ী দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, রহস্যজনক এই হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।











