ফরিদপুরে হাসপাতালে ওয়ার্ড বয়ের দায়িত্ব পালন করেন বাবুর্চির সহকারী
- আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 94
চিকিৎসা সেবার নামে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কী ধরনের হরিলুট ও বেসামাল কাণ্ড চলছে, তা আরও একবার হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গোপন অভিযোগ ও অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের ঝটিকা অভিযান। আর এই অভিযানের মুখেই বেরিয়ে এসেছে গা শিউরে ওঠার মতো তথ্য—বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কর্মরত এক ব্যক্তি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন গুরুত্বপূর্ণ ‘ওয়ার্ড বয়’ হিসেবে!
দুদক ফরিদপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ওই ব্যক্তি নিজেই টিমকে নিশ্চিত করেন যে, কাগজে-কলমে তিনি বাবুর্চির সহযোগী হলেও বাস্তবে হাসপাতালে ওয়ার্ড বয়ের কাজই পরিচালনা করছেন।
দালালচক্র, ওষুধ বিক্রি ও নিয়োগে অর্থ আত্মসাতের পাহাড়
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্লিনিক মালিকদের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। হাসপাতালে আসা দূর-দূরান্তের অসহায় রোগীদের সুচিকিৎসা না দিয়ে নানা অজুহাতে হয়রানি করা এবং জোরপূর্বক কিংবা ফুসলিয়ে বাইরের বিভিন্ন প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে পাঠাতে বাধ্য করার অগণিত অভিযোগ জমা পড়েছিল দুদক প্রধান কার্যালয়ে।
একই সঙ্গে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ, কেনাকাটায় অনিয়ম এবং সরকারি ফ্রি ওষুধ বাইরে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান শুরু করে দুদকের বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “রোগীদের চিকিৎসাসেবায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে হয়রানি, দালালচক্রের প্রভাব, আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে আর্থিক তছরুপ এবং সরকারি ওষুধ গায়েবের মতো বেশ কয়েকটি গুরুতর বিষয়ের ওপর তদন্ত চালানো হয়েছে। প্রধান কার্যালয়ের সরাসরি নির্দেশেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সংগৃহীত সব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দ্রুত বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”











