ফরিদপুরে নিখোঁজ শিক্ষিকার হোয়াটসঅ্যাপে ভয়ংকর তথ্য
- আপডেট সময় : ০৮:১৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
- / 1569
১১ মাসের দুধের শিশু জান্নাতুল রওজা আতিকাকে ফেলে হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া ফরিদপুর সিটি কলেজের সিনিয়র লেকচারার সাবজান নাহার অবশেষে গোপন অবস্থান থেকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েছেন। তবে তাঁর বার্তায় ‘প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসার’ দাবি থাকলেও, শিশুটির প্রতি তাঁর উদাসীনতা এবং পুরনো ডিভোর্সের ইতিহাস নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি নিজেকে “এক কাপড়ে জীবন নিয়ে” পালিয়ে আসা দাবি করেছেন।
শিক্ষিকার দাবি ও ডিভোর্সের তথ্য
স্বেচ্ছাসেবক আবরার নাদিম ইতুর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় সাবজান নাহার দাবি করেন, তিনি তাঁর স্বামীর ‘জুলুম ও টর্চার’ সহ্য করতে না পেরে পালিয়েছেন।
বার্তার মূল অংশ: “এক কাপড়ে জীবন নিয়ে শুধু বেঁচে পালিয়েছি। সাইকো একজন মানুষের সাথে মুখ বন্ধ কোরে প্রাণটা কোনকম বেঁচে সিলো, এতো জুলুম, এতো টর্চার একজন মানুষ করতে পারে, তাই জানা ছিলোনা।”
তালাক: তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ২১ অক্টোবরই তাঁর স্বামী রাজা মিয়াকে রাজবাড়ীর কাজীর মাধ্যমে তালাকনামা পাঠিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “যাস্ট তিনমাস সময় হলেই ফিরবো ইনশাআল্লাহ।”
প্রশ্নবিদ্ধ ‘প্রাণ বাঁচানোর’ দাবি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবজান নাহারের ‘তাৎক্ষণিক প্রাণ ঝুঁকির’ দাবিটি ঘটনার সঙ্গে মেলে না।
পরিকল্পিত প্রস্থান: তিনি নিরুদ্দেশ হওয়ার দিন সকালেই কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। এরপর তিনি প্রথমে থানায় গিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে টাকার দাবিতে মারধরের একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং একইদিনে তালাকনামা পাঠিয়ে দেন।
শিশুর প্রতি উদাসীনতা: তিনি থানায় অভিযোগ করার সময় পুলিশকে মেয়ে আতিকার বিষয়ে কিছুই জানাননি বা কী ধরনের তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মুখে ছিলেন, তারও উল্লেখ করেননি। পরবর্তীতে পাঠানো বার্তাতেও শিশুটির প্রতি কোনো উদ্বেগ দেখা যায়নি।
সন্দেহ ও নেপথ্যের কারণ
সাবজান নাহারের এই আচরণ তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্বামীর পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রও এই সন্দেহের ইঙ্গিত দিয়েছে।
নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত: সাবজান নাহারের স্বামী রাজা মিয়া সন্দেহ করছেন যে, তিনি এবারেও অন্য কারো সাথে পালানোর পরিকল্পনা থেকেই এমনটি করেছেন।
সূত্র জানায়: তাঁর ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, শিশুটিকে ফেলে যাওয়ার কারণ হলো— “মেয়েকে সাথে নিয়ে গেলে তো আর নতুন কারো গলায় ঝুলতে পারবেন না!”
স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্বেগ ও অতীত রেকর্ড
নিরুদ্দেশ হওয়ার পর শিশুটির খবর নিতে এগিয়ে আসা স্বেচ্ছাসেবীরা বিষয়টি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্বেচ্ছাসেবকের প্রশ্ন: টিমের আবরার নাদিম ইতু বলেন, “তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কি হয়েছে সেটি আইনগতভাবে সমাধা হবে। আমরা মেয়েটিকে তাঁর মাতৃস্নেহে ফিরিয়ে দিতে চাই।” তিনি আরও প্রশ্ন করেন, কোরআন ও আইন অনুযায়ী শিশুর মায়ের কাছে থাকার বিধান থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন সুযোগ নিচ্ছেন?
অতীতের ইতিহাস: জানা গেছে, সাবজান নাহার এর আগেও তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্বামীকেও ডিভোর্স দিয়েছিলেন, যখন সেই স্বামীদের ঘরে তাঁরই গর্ভজাত ছোট ছোট মেয়ে শিশু ছিল। সেই সন্তানরা আজও মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত।




















