ফরিদপুরে ‘স্কুল থেকে পিছু ধাওয়া, ঘরে ঢুকে শিক্ষককে গুলি
- আপডেট সময় : ১১:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 364
স্কুলের ছুটি শেষে মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে সবেমাত্র নিজের বাড়ির উঠানে পা রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু টের পাননি—মৃত্যুর মতো একদল সশস্ত্র ছায়া তাঁকে পিছু ধাওয়া করছিল দূর থেকেই। বাড়ি পৌঁছানোমাত্রই মাথায় হেলমেট সাঁটানো ১৪ থেকে ১৫ জন যুবকের এক তাণ্ডব বাহিনী ঢুকে পড়ল ভেতরে। হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক আর মরণাস্ত্র! কিছু বুঝে ওঠার আগেই গর্জে উঠল আগ্নেয়াস্ত্র। রক্তে ভেসে গেল মেঝের মাটি।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরডাঙ্গী গ্রামে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিবাদের জের ধরে এম এ মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে বাড়িতে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মারাত্মক জখম শিক্ষক মোস্তাফিজুরকে রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সদরপুরের শোনপাচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
জমি বিরোধ ও ‘হেলমেট বাহিনী’র তাণ্ডব
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, চরভদ্রাসন উপজেলার ব্যবসায়ী আলতাফ শেখের পরিবারের সঙ্গে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ৭ সেপ্টেম্বর আলতাফ শেখের জমির সাড়ে ৩০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে শিক্ষক পরিবারের বিরুদ্ধে।
শিক্ষক মোস্তাফিজুরের বোন মোহসীনা আক্তার ও বাবা সফিউদ্দীন রহমান অভিযোগ করেন, ২৬ শতাংশ জমি বিক্রি করা হলেও আলতাফ শেখের পরিবার অতিরিক্ত প্রায় ৪০ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। সেই বিবাদের জের ধরেই আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ অস্ত্রধারী গ্যাং নিয়ে শিক্ষককে স্কুল থেকে পিছু ধাওয়া করে বাড়িতে ঢোকেন।
অভিযোগ—মইদ নিজ হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলি করেন। গুলিতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হেলমেট পরা বাহিনীর সদস্যরা ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ত্রাস সৃষ্টি করে সটে পড়ে।
তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মইদ। তাঁর পাল্টা দাবি, “আমাদের দেখে পালাতে গিয়ে মোস্তাফিজুর পড়ে যান এবং তাঁর আগে থেকে ভাঙা পায়ে আঘাত পান।”
ইনজুরি নোটে গুলির ক্ষত, নিশ্চুপ প্রশাসন!
মইদ আঘাতের কথা বানিয়ে বললেও হাসপাতালের চিকিৎসাসূত্র ও সরকারি ‘ইনজুরি নোট’ অন্য কথা বলছে। হাসপাতালের নোটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—শিক্ষক মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে পরিষ্কার ‘গুলির ক্ষত’ (Gunshot wound) রয়েছে, যার আঘাতে হাঁটুর নিচের দুটি হাড় সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। এছাড়া ডান কাঁধের হাড় সরে যাওয়া ও বুকে কড়া আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—এত বড় একটি ঘটনার পরও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বা পরিচালক হুমায়ূন কবীর ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
অন্যদিকে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ জানান—
“ঘটনাটি সম্পর্কে এখনও আমাদের জানা নেই। থানায় এ বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগও দায়ের করা হয়নি।”











