ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বাঁশের সাঁকো নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: আহত ১০

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 137

ময়েনদিয়া বাজারের একচ্ছত্র আধিপত্য দখলের পুরোনো আক্রোশ ছিলই। তার ওপর আগুনে ঘি ঢালল কুমার নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরির সিদ্ধান্ত! সামান্য একটি কাঠের বা বাঁশের সাঁকো নির্মাণকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হলো ফরিদপুরের সালথা উপজেলা। রক্তক্ষয়ী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আর দেশীয় অস্ত্রের কোপে ধূলিসাৎ হলো গ্রামটির শান্ত পরিবেশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড়খারদিয়া বলতলা ব্রিজ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। বিকেলজুড়ে চলা দফায় দফায় এই সহিংসতায় অন্তত ১০ জন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ময়েনদিয়া বাজার ও আশেপাশের এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে যদুনন্দী ইউনিয়নের মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ এবং পার্শ্ববর্তী পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের অনুসারীদের মধ্যে বহু দিন ধরেই জলঘোলা হচ্ছিল। শনিবার খারদিয়া-ময়েনদিয়া কুমার নদীর ওপর একটি সাধারণ বাঁশের সাঁকো দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেই পুরোনো তুষের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে।

দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি ও হাসপাতালে লাশের সারি

মুহূর্তের মধ্যেই দুই পক্ষের সমর্থকরা রামদা, ঢাল, সরকি ও টেঁটাসহ নানা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বড়খারদিয়া ব্রিজ এলাকা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে সংঘাত। বিকেলভর চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। চিৎকার আর কোপাকুপিতে থমথমে হয়ে পড়ে চারপাশ।

সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বেশ কয়েকজনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো—সংঘর্ষের পর পর রণক্ষেত্র তৈরি করা সেই দুই পক্ষের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ এবং ইউপি চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর—উভয়েরই মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়!

পুলিশের তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান—

“সংবাদের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পুনরায় যেন কোনো অপ্রীতিকর বা সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।”

ফরিদপুরে বাঁশের সাঁকো নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: আহত ১০

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়েনদিয়া বাজারের একচ্ছত্র আধিপত্য দখলের পুরোনো আক্রোশ ছিলই। তার ওপর আগুনে ঘি ঢালল কুমার নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরির সিদ্ধান্ত! সামান্য একটি কাঠের বা বাঁশের সাঁকো নির্মাণকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হলো ফরিদপুরের সালথা উপজেলা। রক্তক্ষয়ী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আর দেশীয় অস্ত্রের কোপে ধূলিসাৎ হলো গ্রামটির শান্ত পরিবেশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড়খারদিয়া বলতলা ব্রিজ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। বিকেলজুড়ে চলা দফায় দফায় এই সহিংসতায় অন্তত ১০ জন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ময়েনদিয়া বাজার ও আশেপাশের এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে যদুনন্দী ইউনিয়নের মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ এবং পার্শ্ববর্তী পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের অনুসারীদের মধ্যে বহু দিন ধরেই জলঘোলা হচ্ছিল। শনিবার খারদিয়া-ময়েনদিয়া কুমার নদীর ওপর একটি সাধারণ বাঁশের সাঁকো দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেই পুরোনো তুষের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে।

দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি ও হাসপাতালে লাশের সারি

মুহূর্তের মধ্যেই দুই পক্ষের সমর্থকরা রামদা, ঢাল, সরকি ও টেঁটাসহ নানা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বড়খারদিয়া ব্রিজ এলাকা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে সংঘাত। বিকেলভর চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। চিৎকার আর কোপাকুপিতে থমথমে হয়ে পড়ে চারপাশ।

সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বেশ কয়েকজনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো—সংঘর্ষের পর পর রণক্ষেত্র তৈরি করা সেই দুই পক্ষের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ এবং ইউপি চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর—উভয়েরই মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়!

পুলিশের তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান—

“সংবাদের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পুনরায় যেন কোনো অপ্রীতিকর বা সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।”