ফরিদপুরে কথিত যুবদল নেতার তাণ্ডবের জের: গ্রেপ্তার ৭ নিরীহ যুবক
- আপডেট সময় : ০৩:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
- / 754
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার কামারগ্রাম ইউনিয়নে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় উল্টো পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন সাতজন কর্মজীবী যুবক। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত অপরাধী রয়েছেন নিরাপদে, অথচ নির্দোষদের রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার শুরু মুদি দোকানে হুমকি ও হামলার মধ্য দিয়ে
গত ৯ জুন, কামারগ্রামের কাঞ্চন একাডেমি মাঠ সংলগ্ন রফিকুল ইসলামের মুদি দোকানে হাজির হন শাহেদ নামের এক যুবক। নিজেকে তিনি ‘যুবদল নেতা’ এবং স্থানীয় জুয়েল মোল্লার ছেলে হিসেবে পরিচয় দেন। রফিকুলের অভিযোগ, শাহেদ তার দোকান থেকে প্রায়ই বিনামূল্যে সিগারেট নিতেন। কিন্তু এবার টাকা চাইলে পিস্তল দেখিয়ে হুমকি দেন—২০ হাজার টাকা না দিলে দোকান গুঁড়িয়ে দেবেন।
চালান ভাঙচুর ও নগদ অর্থ লুটের পর দোকানদারের চিৎকারে আশেপাশের যুবকেরা ছুটে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। স্থানীয় মুরব্বিরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়ে ‘বড় ভুল’
রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি থানায় গিয়ে এসআই মফিজুর রহমানকে বিষয়টি জানালেও পরে তা তার জন্য বিপদ ডেকে আনে।
পরদিন (১০ জুন) গার্মেন্টসকর্মী কাওসার খানকে শাহেদের লোকজন রাস্তা থেকে ধরে মারধর করে। এ ঘটনায় থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার অভিযান
১১ জুন রাতে কামারগ্রাম পশ্চিমপাড়ায় ঈদের মিলনমেলা চলাকালীন হঠাৎ পুলিশ হাজির হয়ে সম্রাট, আব্দুল্লাহ কাজীসহ সাতজন যুবককে ডেকে নেয়। বলা হয়, কিছু তথ্য নেওয়া হবে এবং রাতেই ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তারা আর বাড়ি ফেরেননি।
পরদিন জানা যায়, অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ: তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িতই নয়
গ্রেপ্তার যুবকদের পরিবার বলছে, তাদের কেউই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। কেউ গার্মেন্টসে কাজ করেন, কেউ দিনমজুর, কেউবা প্রবাস থেকে ফিরেছেন মাত্র। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে গ্রেফতার হওয়ার মতো কোনো কর্মকাণ্ডে তারা জড়াননি।
এক অভিভাবকের প্রশ্ন,
“আমরা যদি অপরাধের প্রতিবাদ করি, তাহলে কি আমাদেরই অপরাধী বানানো হবে?”
যুবদলের পক্ষ থেকে অস্বীকৃতি
আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শাহিন মোল্লা বলেন,
“শাহেদ নামে কাউকে আমরা চিনি না। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের কোনো কমিটিও নেই। কেউ যুবদলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করলে, প্রশাসনের উচিত তাকে আইনের আওতায় আনা।”
পুলিশের বক্তব্য
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি শাহজালাল আলম বলেন,
“এই অভিযানে সহকারী পুলিশ সুপার ইমরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এটি ছিল নিয়মিত অভিযানের অংশ।”
যুবকদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে বলেন,
“আছে, তবে তারা কোনো পদে আছে কি না, নিশ্চিত নই।”
উপসংহার:
এই ঘটনাটি একটি বড় প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—চাঁদাবাজি বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে কি সাধারণ মানুষকেই রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসতে হবে? প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত না করে নিরপরাধদের হয়রানি আইনের শাসনের উপরই আঘাত হানে।











